রামপালবিরোধী হরতাল: পল্টনে যান চলাচল বন্ধ
সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে হরতালের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর পল্টন মোড়ে অবস্থান নেওয়ায় পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে আধাবেলা এই হরতালের সমর্থনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পল্টন, প্রেসক্লাব, দৈনিক বাংলা মোড় ও আশপাশের সড়কে মিছিল শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পুলিশের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে সকাল থেকে ওই সড়কগুলোতে গণপরিবহনসহ স্বাভাবিক যান চলাচল করতে দেখা গেলেও সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ কয়েকটি সংগঠন সকাল সোয়া ১০টার দিকে পল্টন মোড়ে অবস্থান নিলে মতিঝিলমুখী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা জুলফিকার আলী বলেন, “হরতালে শাহবাগ, মিরপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং হয়েছে। সব জায়গায় পুলিশ নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। মিরপুরের হামলা থেকে সাংবাদিকরাও রক্ষা পায়নি। তার মানে এই চুক্তির বিরোধী অবস্থানে যারাই যাবে, তাদের কেউ এদের হামলা থেকে রক্ষা পাবে না।”
সরকারকে অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে ‘এই গোলামীর চুক্তি’ বাতিল করার আহ্বান জানান তিনি।
গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ‘সুন্দরবন-বিনাশী সব চুক্তি’ বাতিলসহ সাত দফা দাবিতে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতালের এই কর্মসূচি ঘোষণা করে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তবে সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলেছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।
বাসদ নেতা জুলফিকার আলী সমাবেশে বলেন, সরকার সুন্দরবনের ক্ষতি এড়াতে যে উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলছে, তার অস্তিত্ব ওই প্রকল্পে নেই।
তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, “হরতাল চলছে। বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরা সমাবেশ করব।”
পল্টন, প্রেসক্লাবে হরতালের সমর্থনে মিছিল হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ইডেন কলেজ এলাকায় বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল শাহবাগের দিতে যেতে চাইলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও দফায় দফায় পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেখানে রাবার বুলেট ও জলকামানও ব্যবহার করে পুলিশ।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আক্তার জানান, কলেজের সামনে সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা।পরে একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিক্ষোভে যোগ দেন।
