৪০ বছরের নিয়ম ভাঙল এক্সেল: এক সেলে এখন একাধিক মান
উইন্ডোজ ও ম্যাকের এক্সেল বিটা চ্যানেলে মাইক্রোসফট ৩৬৫ ইনসাইডাররা স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়ার ভিত্তিতে ফিচারটি ব্যবহার করতে পারছেন।
চল্লিশ বছরের নিয়ম ভেঙে এক সেলে কেবল একটি মান রাখার পুরনো নিয়ম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট এক্সেল।
স্প্রেডশিট সফটওয়্যারটিতে নতুন তালিকা ও অ্যারে যোগের এই পরীক্ষামূলক ফিচারের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে এক সেলের ভেতরেই একাধিক ডেটা বা মান সংরক্ষণ করতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকস্পট।
উইন্ডোজ ও ম্যাকের এক্সেল বিটা চ্যানেলে মাইক্রোসফট ৩৬৫ ইনসাইডাররা অপ্ট-ইন বা স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়ার ভিত্তিতে ফিচারটি ব্যবহার করতে পারছেন।
নতুন ফিচারের সবচেয়ে সহজ অংশটি হচ্ছে তালিকা বা লিস্ট তৈরি করা। ব্যবহারকারীরা ‘ইনসার্ট > লিস্ট’ অপশনের মাধ্যমে বা ‘কন্ট্রোল+জে’ প্রেস করে একটি লিস্ট তৈরি ও আঞ্চলিক সেটিংস অনুসারে কমা বা সেমিকোলন দিয়ে বিভিন্ন আইটেম যোগ করতে পারবেন।
মানগুলো একটি সেলেই পৃথক মান আকারে থাকবে। তবে সেগুলোকে আলাদা মান হিসেবে ধরে ফিল্টারিং ও গণনায় ব্যবহার করা যাবে।
প্রজেক্ট, ব্যক্তি বা বিভিন্ন রেকর্ড ট্র্যাক করার কাজে স্প্রেডশিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা সহায়ক হতে পারে। যেমন, একটি প্রজেক্টের সারিতে আলাদা কলাম বা সাহায্যকারী টেবিল ছাড়াই একাধিক মালিকের তালিকা রাখা সম্ভব। ব্যবহারকারীরা সেলের আইকন থেকে তালিকাটি খুলতে বা সেলটিতে ডাবল-ক্লিক করে বা ‘এফ২’ প্রেস করে এটা করতে পারবেন।
এ ছাড়া, এক্সেল ফিল্টারিং ও বিভিন্ন হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রেও এসব স্বতন্ত্র এন্ট্রি ব্যবহার করা যাবে। ‘=বি২’-এর মতো কোনো ফর্মুলার মাধ্যমে কোনো লিস্টের রেফারেন্স দিলে সেটা এর বিভিন্ন আইটেমকে আলাদা আলাদা সেলে ছড়িয়ে দিতে পারবে।
এক ব্লগ পোস্টে মাইক্রোসফটের এক্সেলের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার জেক আর্মস্ট্রং লিখেছেন, “প্রচলিতভাবে আপনার আলাদা কলাম, সাহায্যকারী টেবিল বা একটিমাত্র সেলে ‘কার্লোস, হেনরিয়েটা, জ্যাকব’-এর মতো টেক্সট গাদাগাদি করে রাখার প্রয়োজন হত।
“তবে নতুন এ তালিকার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন মানকে একটি সেলেই একসঙ্গে রাখতে এবং একইসঙ্গে প্রতিটি আইটেম নিয়ে আলাদাভাবে কাজও করতে পারবেন।”
এ পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হচ্ছে লিস্ট, সেলের মধ্যে অ্যারে এবং নেস্টেড অ্যারে নিয়ে একসঙ্গে বড় পরিবর্তন। এক্সেল এখন থেকে কোনো সেলের ভেতরে মান হিসেবে বা ফর্মুলার মাধ্যমে উৎপাদিত অ্যারে সংরক্ষণ করতে পারবে। অ্যারেগুলোর মাত্রা ভিন্ন হতে ও এগুলোর ভেতরে অন্যান্য অ্যারেও থাকতে পারে।
সাধারণত ={1;2;3} এর মতো ফর্মুলাগুলোর ফলাফল ওয়ার্কশিটের একাধিক সেলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে নতুন ফিচারের অধীনে ব্যবহারকারীরা ফর্মুলার বডির চারপাশে ব্র্যাকেট ব্যবহার করে ফলাফলটিকে একটি সেলের মধ্যেই আটকে রাখতে পারবেন।
ওয়ার্কশিটগুলো নির্দিষ্ট কলামে ডেটা বসাতে বাধ্য না করে পরিবর্তনশীল দৈর্ঘ্যের ডেটা এক সুবিন্যস্ত রেকর্ডের মধ্যে সংরক্ষণ করতে পারে।
‘নেস্টেড অ্যারে’ এ সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে। এর আগে, যেসব ফর্মুলা অন্য অ্যারে ধারণকারী অ্যারে রিটার্ন করার চেষ্টা করত সেগুলোতে সংক্ষিপ্ত ফলাফল বা #CALC! ত্রুটি দেখা দিতে পারত।
মাইক্রোসফট বলেছে, সমর্থিত ফর্মুলাগুলো এখন সম্পূর্ণ নেস্টেড ফলাফল দেবে, যা পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশের জন্য ব্যবহৃত হবে।
মাইক্রোসফট একটি রানিং লগ বা দৌড়ের হিসাবকে এর উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রতিটি সারি একেকটি দৌড় বোঝাতে ও স্প্লিট টাইম বা নির্দিষ্ট দূরত্বের সময়ের একটি অ্যারে সংরক্ষণ করতে পারে।
বিভিন্ন স্প্লিট বা দূরত্বের দৌড়গুলো একই টেবিলে থাকতে পারে অথচ এক্সেল ঠিকই মোট সময়, গড় স্প্লিট, গড় গতি ও দ্রুততম কিলোমিটারের হিসাব করে ফেলতে পারে।
নতুন এসব স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করার জন্য চারটি নতুন ফাংশন যোগ করা হচ্ছে। যার মধ্যে ‘ফ্ল্যাটন’ অ্যারে থেকে নেস্টিংয়ের স্তরগুলো দূর করে, ‘HAS’ চেক করে যে কোনো অ্যারে নির্দিষ্ট কোনো মান ধারণ করে কি না, ‘HASANY’ সরবরাহ করা একাধিক মানের যে কোনো একটি খোঁজে ও ‘HASALL’ পরীক্ষা করে যে সব কটি সরবরাহ করা মান উপস্থিত আছে কি না।
এসব পরিবর্তন বর্তমান স্প্রেডশিট ওয়ার্কফ্লো বা কার্যপ্রবাহকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে। এক্সেল ফাইল রিড করে এমন অনেক অ্যাপ্লিকেশন ও লাইব্রেরি ধরে নেয় যে একটি সেলে কোনো স্ট্রিং, নম্বর, তারিখ বা বুলিয়ান মান থাকবে।
মাইক্রোসফট এখনও বলেনি, ‘এক্সএমএল’ ফাইলে লিস্ট, সেলের ভেতরের অ্যারে ও নেস্টেড অ্যারেগুলোর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে হবে। ফলে যেসব সফটওয়্যার লাইব্রেরি ও অ্যাপ্লিকেশন এক্সেল ডেটা আমদানি করে সেগুলোতে আপডেট আনার প্রয়োজন হতে পারে।
এক্সেলের বেশ কিছু ফিচার এখনও এসব নতুন সেল টাইপকে সমর্থন করে না। ‘পিভটটেবল’ সোর্স ডেটা হিসেবে অ্যারে মান ব্যবহার, ‘পাওয়ার কোয়েরি’ অ্যারে-সংবলিত বিভিন্ন কলাম লোড বা এমিট ও চার্টগুলো অ্যারে এন্ট্রিগুলোকে আলাদা ডেটা পয়েন্টে রূপান্তর করে না।
ডেটা ভেলিডেশন ড্রপডাউন মান হিসেবে লিস্ট বা অ্যারে ব্যবহার করতে পারে না ও ‘ফাইন্ড অ্যান্ড রিপ্লেস’ কোনো লিস্ট বা অ্যারের ভেতরের একক কোনো আইটেম পরিবর্তন করতে পারে না।
‘নেস্টেড’ অ্যারে সম্পর্কিত অধিকাংশ গণনার জন্য নতুন ওয়ার্কবুক সেটিংয়ের প্রয়োজন হবে, যার নাম ‘কম্প্যাটিবিলিটি ভার্সন ৩’।
মাইক্রোসফট বলেছে, সেটিংটি কিছু বর্তমান ফর্মুলার ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে। যদি ‘ভার্সন ৩’ কোনো সমস্যা তৈরি করে তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে ওয়ার্কবুকটি ‘কমপ্যাটিবিলিটি ভার্সন ১’ বা ২-এ রাখতে পারবেন।
এক্সেলের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার আর্মস্ট্রং বলেছেন, “স্প্রেডশিটের অন্যতম প্রাচীন নিয়ম ছিল, এক সেল, এক মান। সে দিন আর নেই!”
এসব প্রিভিউ ফিচার ব্যবহারের জন্য উইন্ডোজের ক্ষেত্রে এক্সেল ‘ভার্সন ২৬১০’ (বিল্ড ২০৫২০.২০০০০ বা তার পরবর্তী) ও ম্যাকের ক্ষেত্রে এক্সেল ‘ভার্সন ১৬.১১৪’ (বিল্ড ২৬০৯২১১১ বা তার পরবর্তী) প্রয়োজন হবে।
মাইক্রোসফট বলেছে, এটা চালুর কাজটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে ও পরীক্ষার সময় এসব ফিচারে পরিবর্তন আসতে, এগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাদও দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি, ফিচারটি ব্যবহারকারীদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো ওয়ার্কবুকে এর ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্টটি।
