২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ডলারের অঙ্ক বাড়ে, শ্রমিকের হিসাব মেলে না

গ্যাস-সংকট, শুল্কের জটিলতা ও মার্কিন বাজারের পরিবর্তনশীল নীতি—একত্রে চার ধাক্কায় স্থবির তৈরি পোশাক খাত।

ডলারের অঙ্ক বাড়ে, শ্রমিকের হিসাব মেলে না

কারখানার বন্ধ গেট ও বকেয়া মজুরির অনিশ্চয়তায় কাটছে শ্রমিকের জীবন।

এম এম মুসা এম এম মুসা

Published : 29 Sep 2026, 08:11 AM

Updated : 29 Sep 2026, 08:11 AM

গাজীপুরের এক কারখানার গেটে সকালে একটা কাগজ ঝুলল। উৎপাদন সাময়িক বন্ধ। আট বছর ধরে সেলাই মেশিনে বসা এক নারী শ্রমিক কাগজটা পড়লেন দুবার। তারপর কিছু না বলে ফিরে গেলেন ভাড়া ঘরের দিকে। বকেয়া মজুরি কবে মিলবে, কেউ জানে না। এ বছর ছাঁটাই হওয়া অনেক শ্রমিক এখনো বকেয়া মজুরি ও পাওনা পাননি।

জুলাইয়ের শুরুতে খবর এল অন্য রকম। জুনে দেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৪২০ কোটি ডলারে উঠেছে; শুধু পোশাকখাতে প্রবৃদ্ধি ২১.৫২ শতাংশ। নীতিনির্ধারকেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।

একই দেশ, একই খাত, একই সময়। এক দিকে রপ্তানির লাফ, অন্য দিকে কারখানার বন্ধ গেট। দুটো খবরই সত্য। প্রশ্ন হলো, কোনটা আমাদের আসল ছবি?

সংখ্যা যা বলে, আর যা বলে না

আগে সংখ্যাগুলো দেখি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ কম। পোশাকখাত আয় করেছে ৩৮.৭০ বিলিয়ন ডলার, প্রায় ১.৬৪ শতাংশ কম। সরকারের ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অনেক দূরে থেকে গেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছিল ২.৬৩ শতাংশ। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা আর দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা।

তবে ছবিটা একরঙা নয়। নতুন অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ১১.৪২ শতাংশ বেড়ে ১.৬১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর অগাস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল রেকর্ড ২৫.৬৫ শতাংশ। বাজার তাহলে ফিরছে, অন্তত আংশিক।

আরেকটা তথ্য ভাবার মতো। গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। হিসাব কষলে দেখা যায়, রেমিট্যান্স এখন পোশাক রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি। দেশের ডলার-অর্থনীতি আর একা গার্মেন্টসের কাঁধে ভর দিয়ে নেই। সেই বিবেচনায় ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু যে খাতে চাকরির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সে খাতের ধাক্কা সরাসরি ঘরে ঘরে পৌঁছায়।

ডলার কেন চাকরির মাপকাঠি নয়

রপ্তানির অঙ্ক আর কর্মসংস্থান এক জিনিস নয়। কেন? প্রথমত, একই সংখ্যক শার্ট আগের চেয়ে কম দামে বিক্রি হলে কারখানা একই পরিশ্রমে কম আয় করে। সরবরাহকারীরা বলছেন, ক্রেতারা উৎপাদন খরচ বাড়লেও বেশি দাম দিতে রাজি নন। কিছু কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তার মানে জাহাজ ভরে যাচ্ছে, কিন্তু মালিকের মার্জিন শুকিয়ে যাচ্ছে। সেই শুকনো মার্জিনের প্রথম শিকার হয় শ্রমিকের ওভারটাইম, তারপর বকেয়া, তারপর চাকরি।

দ্বিতীয়ত, মোট রপ্তানি মানে বড় কারখানা, ছোট কারখানা, সব মিলিয়ে একটা যোগফল। সেই যোগফল স্থিতিশীল থাকলেও ভেতরে কোথাও কারখানা বন্ধ হতে পারে, কোথাও নতুন লাইন খুলতে পারে। যাঁরা চাকরি হারান, তারা যেখানে নতুন কাজ পান, সেই কাজ তাঁদের জন্য নাও হতে পারে। মেশিন-চালিত আধুনিক কারখানায় একই উৎপাদনে কম মানুষ লাগে।

তৃতীয়ত, তথ্যের অভাব প্রকট। কত মানুষ চাকরি হারালেন, এ নিয়ে দেশে সংখ্যার লড়াই চলছে। একটি বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা ঘাটতির শিকার হয়েছেন। বিজিএমইএর তথ্যে ৮০টি সদস্য কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ জন ছাঁটাই হয়েছেন এবং তার মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটি বিশ্লেষণে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে চারশর বেশি কারখানার স্থায়ী বন্ধের কথা এসেছে; তার ৮৬ শতাংশের কারণ হিসেবে কাজের অভাব ও আর্থিক সংকট দেখানো হয়েছে। আরও বড় একটি হিসাবে এই সময়ে ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ এবং প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিকের কর্মহীনতার কথা বলা হয়েছে।

চারটি ধাক্কা, একসঙ্গে

এই সংকট একটি কারণের ফল নয়। চারটা ধাক্কা প্রায় একই সময়ে এসেছে। ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস-সংকট আরও তীব্র হয়েছে, কারণ একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কারখানায় শিফট ভাগ করে উৎপাদন ২০-২৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে, আর গ্যাসের জেনারেটর ফার্নেস অয়েলে চালাতে গিয়ে খরচ প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। কারখানা বসে থাকলেও শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়। এর ওপর ইরান-যুদ্ধের জেরে জ্বালানি-সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট কারখানার আর্থিক অবস্থা আরও নাজুক করেছে।

শুল্কের গল্পটা জটিল। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়। তাতে বেশির ভাগ পণ্যে শুল্ক ১৯ শতাংশে নামে এবং মার্কিন তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের শর্তে সীমিত পরিমাণ পোশাকে শূন্য শুল্কের সুযোগ থাকে। এগারো দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তিটিই অবৈধ ঘোষণা করে। পরে অস্থায়ী শুল্কের ব্যবস্থা হয়, যা জুলাইয়ে শেষ হলে সেই জায়গায় প্রায় সব বাংলাদেশি পণ্যে ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক বসে। সমালোচকদের হিসাবে এটি পোশাকের বিদ্যমান ১৫.৬ শতাংশ শুল্কের ওপর যোগ হয়ে কার্যকর হার ২০ শতাংশের ওপরের দিকে নিয়ে যায়। তবু মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ ভালো করেছে। ২০২৫ সালে সেখানে পোশাক রপ্তানি ৮.২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে, আর বাজার-অংশ ৯.২৬ থেকে বেড়ে ১০.৫৩ শতাংশ হয়েছে। কারণ ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগীদের ওপর চাপা উচ্চ শুল্কও নেমে এসেছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড সবচেয়ে বড় শুল্ক-স্বস্তি পেয়েছে। প্রতিযোগিতা তাই আরও খোলা, আর মার্জিন আরও পাতলা।

এদিকে বাংলাদেশ ২৪ নভেম্বর ২০২৬ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। মাত্র দুই মাস বাকি। দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পণ্য-রপ্তানি এলডিসি-সংক্রান্ত শুল্ক-সুবিধা পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরের রূপান্তর-সময় দিয়েছে। কিন্তু সময় ফুরালে ইউরোপে শুল্ক ৯ থেকে ১২ শতাংশ হতে পারে; বিশ্লেষকদের হিসাবে রপ্তানি আয়ের ক্ষতি বছরে ১ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার। কিছু আন্তর্জাতিক হিসাবে সেটা আরও বেশি। এই তিন বছর ছুটি নয়। প্রস্তুতির সময়।

২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে ৫৬.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। শ্রমিকেরা তখন ২৩ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তারপর কয়েক বছর মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের আশপাশে বা ওপরে থেকেছে। কাগজে মজুরি বেড়েছে, কিন্তু বাজারে তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। মজুরি যখন ধরে রাখা কঠিন, তখন ছাঁটাই আর বকেয়া শ্রমিকের জীবনে দ্বিগুণ আঘাত হয়ে আসে।

সরকারের নীতি: কতটা ঠিক, কতটা ফাঁকা

সরকারের কিছু পদক্ষেপ যুক্তিসঙ্গত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক-আলোচনায় দ্রুত এগোনো ছিল প্রয়োজনীয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকার কারখানাগুলোকে নগদ প্রণোদনা আর কম সুদের ঋণ দিয়ে সহায়তা করতে চেয়েছে। এলডিসি উত্তরণের জন্য ২০২৫ সালের ‘স্মুথ ট্রানজিশন কৌশল’ তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু ফাঁকও কম নয়। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি। বাংলাদেশ নিজের বাজার খুলেছে আর নিয়ম-কানুনে মার্কিন ছাঁচ মেনেছে। সমালোচকদের মতে ছাড়টা অসম। চুক্তির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, অথচ ঢাকা এগিয়েছে বাস্তব অনিশ্চয়তার চেয়ে বেশি নিশ্চয়তা নিয়ে। এই সমালোচনা উপেক্ষার নয়। জাতীয় স্বার্থের হিসাব সংসদে ও জনসমক্ষে খোলাসা হওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, জ্বালানি। এলএনজি-নির্ভর অর্থনীতিতে একটি টার্মিনাল বন্ধ হলে শিল্পাঞ্চল অন্ধকারে যায়, এটা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। এ ঝুঁকি নতুন নয়। তৃতীয়ত, সহায়তার ভারসাম্য। সুবিধা যাচ্ছে মালিকের দিকে। ঋণ, নগদ প্রণোদনা, শুল্কসুবিধা। শ্রমিকের জন্য কী? ছাঁটাই হলে বকেয়া নিশ্চিত করার, নতুন কাজ খুঁজে দেওয়ার বা কয়েক মাস আয়ের নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। যে খাতের চার কোটির কাছাকাছি নয়, চল্লিশ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন, যাঁদের বেশির ভাগ নারী, সে খাতের সংকটে শ্রমিকের সুরক্ষা ছাড়া নীতি অসম্পূর্ণ।

অন্যরা কী করছে

ভিয়েতনামের পথটা আলাদা। দেশটি বহু বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ টেনেছে শুধু পোশাকে নয়, ইলেকট্রনিক্সেও। তাই একটি খাতের ধাক্কা গোটা অর্থনীতিকে নাড়া দেয় না। বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এক খাত থেকে। এ নির্ভরতাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

ভারতের তিরুপ্পুরের গল্প সতর্কবার্তার মতো। মার্কিন শুল্কের সময় সেখানে গণছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ হয়েছে, আর ক্রেতারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দাবি করেছেন। মিয়ানমারেও কারখানা বন্ধ হয়ে চাকরি গেছে। শুল্কের বোঝা সাধারণত শেষ পর্যন্ত সরবরাহ-শৃঙ্খলের সবচেয়ে দুর্বল প্রান্তে গিয়ে পড়ে, অর্থাৎ শ্রমিকের ওপর। ক্রেতা আর কারখানা ভাগাভাগি না করলে শ্রমিক একাই বহন করেন। চীন তার কম মূল্যের পোশাক-উৎপাদন ক্রমে অন্য দেশে সরিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য আর প্রযুক্তির দিকে সরে যাচ্ছে। এই সরে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, আবার প্রতিযোগিতাও।

করণীয়

প্রথমত, বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ এবং কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ ও কর-সুবিধা দিলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বকেয়া মজুরি নিশ্চিত করতে মালিক, ক্রেতা ও সরকারের অংশগ্রহণে তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেকার-সহায়তা, আগাম নোটিশ ও শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের বিধান কার্যকর করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশ এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে কারখানা বন্ধ, ছাঁটাই ও নিয়োগের একটি স্বচ্ছ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত, প্রচলিত পোশাকের বাইরে কৃত্রিম তন্তু, কারিগরি বস্ত্র ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সঙ্গে শ্রমিকদের, বিশেষত নারী শ্রমিকদের, পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

পঞ্চমত, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বিত স্বচ্ছ মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। রেশন, পরিবহন ও আবাসনসুবিধা বাড়ালে শ্রমিকের প্রকৃত আয় উন্নত হবে এবং মালিকের ওপর এককালীন চাপ কমবে। ষষ্ঠত, সংকটে থাকা ক্ষুদ্র কারখানাগুলোর জন্য ব্যাংক সহায়তা, ধাপে ধাপে একীভূতকরণ ও শ্রমিকের চাকরি সুরক্ষাসহ সুশৃঙ্খল পুনর্গঠন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে আকস্মিক কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি কমবে।

গেটের সেই কাগজটা

গাজীপুরের সেই নারী এখন ভাড়া ঘরে বসে হিসাব করছেন, এ মাসে ঘরভাড়া আর বাজার কোন টাকায় মিটবে। ওদিকে বন্দরে কনটেইনার উঠছে। ডলারের অঙ্কে রপ্তানি টিকে আছে। কিন্তু তার অঙ্কে টিকে আছে কিছুই না।

রপ্তানি হলো ডলারের ছবি। কর্মসংস্থান হলো ঘরের ছবি। একটা দেশের অর্থনীতি সুস্থ কি না, তা বোঝা যায় দুটো ছবি কতটা মিলছে তা দিয়ে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্বকে দেখিয়েছে, দরিদ্র দেশ শ্রমঘন শিল্প দিয়ে কতদূর যেতে পারে। এখন পরীক্ষা অন্য জায়গায়। সেই সাফল্যের ভাগ কি শ্রমিকের কাছেও পৌঁছাবে, নাকি সংকট এলে শ্রমিকই একা তার দাম দেবেন?

এম এম মুসা: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক। ই-মেইল: musamiah@gmail.com