রামপাল: ২৬ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হরতালের ডাক
সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধাবেলা হরতালে সমর্থন দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।
ওইদিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জোট।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবীর।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।সরকারের দমন-পীড়ন আর মিথ্যাচার, সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলন আরও বেশি জনসম্পৃক্তা ও নৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে।
“জাতীয় কমিটির ঘোষিত বৃহস্পতিবারে হরতাল দেশ রক্ষার হরতাল। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে আমরা এই হরতালে পূর্ণসমর্থন জানাই।সেই সাথে ঢাকাস্থ সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ক্লাস, পরীক্ষা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্য্ন্ত বন্ধ রেখে হরতালে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাই।”
হরতাল সফল করতে বধুবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল টিএসসি থেকে প্রচারণামূলক মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
“বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হরতাল পালন এবং ঢাকা বাইরে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে,” বলেন ইকবাল কবীর।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, “এই হরতাল কোনো সহিংস হরতাল নয়, শিক্ষার্থীরা নৈতিকভাবে সমর্থন জানিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাক জি এম জিলানী শুভ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক উৎসব মোসাদ্দেক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভা মজুমদার ও ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আক্তার।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। সুন্দরবনের কাছে হওয়ার কারণ দেখিয়ে শুরু থেকেই এ কেন্দ্রটির বিরোধীতা করছে বামপন্থী কয়েকটি সংগঠন।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তবে সরকার,বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলেছেন,এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।
শুরু থেকেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে রয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি।
রোববার হরতালে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। হরতালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও সমর্থন চেয়েছেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ।
