Published : 08 Oct 2016, 11:45 PM
ভারতের মিজোরামে আন্তঃদেশীয় এক সেমিনারেরসাইডলাইনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপেএ আগ্রহের কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গঙ্গার পানি ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে; আমরা এ ব্যারেজ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এতে ভারতকে সঙ্গে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
মিজোরামের রাজধানী আইজলে কলকাতাভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সেনার্স-কে ও মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন নজরুল।
সেখানেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে রাজবাড়িতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে আগ্রহের কথা জানান এই প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গত বছর ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে প্রবাহিত গঙ্গা (বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত) নদীতে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে ব্যারেজ নির্মাণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

প্রস্তাবিত এ ব্যারেজে বর্ষা মৌসুমে আসা পদ্মার পানি সংরক্ষণ করতে রাজবাড়ি থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২.৯ বিলিয়ন কিউবিক লিটার পানি ধারণক্ষম এ জলাধারের গভীরতা হবে ১২.৫ মিটার।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলায় সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১৬০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৩২ হাজার কোটি (প্রায় চারশ কোটি ডলার) টাকা ব্যয়ে এ ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর নির্মাণব্যয় যোগাড়ে ‘সমস্যা হবে না’।
“দুটি চীনা কোম্পানি পুরো প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। আর জাপানের একটি কোম্পানি বলেছে তারা অর্ধেক দেবে, বাকিটা আমাদের যোগাড় করতে।
“কিন্তু ভারত যদি এতে অংশ নেয় তাহলে ব্যারেজটির দীর্ঘমেয়াদী গুরুত্ব বাড়বে; কারণ গঙ্গার প্রবাহ তাদের কাছ থেকেই আমাদের দিকে আসছে”, বলেন তিনি।
গতবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময়ও এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান নজরুল।
“তিনি (মোদী) এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ভারতীয় কর্মকর্তারাও পরে আমাদের কাছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চান, আমরা সেগুলোদিয়েছি।”
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি দল এ বিষয়ে কথা বলতে কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এ ব্যারেজের নির্মাণকাজ শেষ হলে তা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলেরছোট ছোট নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং লবণাক্ততা দূর করে কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি দূর করবে।
পদ্মায়বাংলাদেশের ব্যারেজের ফলে ভারতীয় অঞ্চলে ‘বন্যার পরিমাণ বাড়বে’- এমন শঙ্কাকেও নাকচ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
“ব্যরেজ নির্মাণের পর ভারতীয় অংশে বন্যা এড়াতে বাঁধ নির্মাণ ও অর্থায়নের প্রয়োজন হওয়ার কথা। অবশ্য তাদের অংশে থাকা ভূমি যথেষ্ট উচুঁ ও শক্ত; যে কারণে এরদরকার নাও হতে পারে।”