Published : 02 Dec 2015, 03:58 PM
বুধবার ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতিবন্ধীদের অভিগম্যতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে ইডব্লিউজি'র পরিচালক মো. আবদুল আলিম এ তথ্য জানান।
আলিম বলেন, "বাংলাদেশে ১৮ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা এক কোটি ২১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯১ জন, যার মধ্যে অন্তত ১৭ লাখ তিন হাজার ১৮২ জন বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।”
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা ইডব্লিউজি এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইডব্লিউজি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ছাড়াও ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, নির্বাচনী বিভিন্ন ইস্যুতে গবেষণা এবং এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ইডব্লিউজি’র এক জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে এর পরিচালক আলিম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে শতকরা ৬ ভাগের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষ কোনো নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।
“এদের মধ্যে শতকরা ২২ ভাগ ভোট কেন্দ্রে যেতে পরিবার থেকে কোনো রকম সহযোগিতা পাননি। এছাড়া দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে শতকরা ১৮ ভাগ এবং পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ার কারণে ১৪ ভাগ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি।”
জরিপের সুপারিশে বলা হয়, প্রতিবন্ধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকরি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এছাড়া সব ভোট কেন্দ্রে র্যাম্প স্থাপন করা, ব্রেইল পদ্ধতির ব্যালট পেপার বাধ্যতামূলক করা, নির্বাচনের দিন প্রতিবন্ধীদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা, যারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে না তাদের জন্য ঘরে থেকেই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং ভোটকেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রতিবন্ধীবান্ধব করার সুপারিশ করা হয় ওই জরিপ প্রতিবেদনে।
বৈঠকে সেন্টার ফর ডিজেবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক নোমান খান বলেন, “আমরা নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের কথা বলি। কিন্তু সব মানুষের অংশগ্রহণের কথা সেইভাবে বলি না।
“সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দলই অংশ নেবে। সেই নির্বাচনে সব মানুষও যেন অংশ নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পুরোটা না হোক, কিছু নতুন পদক্ষেপ আমরা আশা করতেই পারি।”
নোমান বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা কিন্তু অনেক। কেউ ভাবতে পারেন, এরা ভোট না দিলে কী হয়? অনেক দেশেইতো শতকরা ৩০-৩৫ ভাগের বেশি মানুষ ভোট দেয় না, তাতে কী হয়।
“প্রশ্নটা এখানেই। কেউ স্ব-ইচ্ছায় ভোট না দিতে পারেন, কিন্তু পদ্ধতির ক্রুটির কারণে কাউকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করা যায় না।”
প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলেন ‘সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজেবিলিটি’র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল হক।
তিনি বলেন, “বর্তমান পদ্ধতিতে একজন প্রতিবন্ধী ভোটাধিকার দিতে পারলেও তার ভোটের গোপনীয়তা অনেক ক্ষেত্রেই থাকে না। অথচ গোপনে ভোট দিতে পারা তার অধিকার। ভোট গোপন না থাকলে সেটার ফল অনেক সময়ই ভোটারের জন্য হুমকির হতে পারে।”