Published : 29 Apr 2026, 12:11 AM
সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এক সম্মেলনে।
সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল রাইটস এশিয়া-প্যাসিফিক বাংলাদেশ জাতীয় সম্মেলন ২০২৬’-এ বক্তারা এসব আইন নতুন করে পর্যালোচনা করার তাগিদ দিয়েছেন।
‘অর্থবহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন প্রণয়ন’ প্রতিপাদ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ডিজিটালি রাইট ও এনগেজমিডিয়া। সেশন পার্টনার হিসেবে ছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ডি-নেট।
টিআইবি আয়োজিত প্রথম প্লেনারি সেশনে সম্প্রতি পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নতুন আইনগুলোতে অসংগতি আছে এবং এই আইনগুলো জুলাইয়ের চেতনা বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা নেতাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না।”
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই অতীতে এমন আইনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন, তবুও তারা একই ধরনের আইন প্রণয়ন করেছেন।
“পুরোনো আইনগুলোই আসলে নতুন নামে আবার আনা হয়েছে, যা মানুষের ক্ষমতায়নে তেমন সহায়ক নয়।”
ডেইলি স্টারের জয়েন্ট এডিটর আশা মেহরীন আমিন বলেন, ফেইসবুক পোস্টের জেরে আগের মতই মামলা হচ্ছে। সাংবাদিকেরা আগে যেমন ‘নজরদারির’ ঝুঁকিতে ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ‘পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই’ আইনগুলো তৈরি হয়েছিল। নতুন সরকারও ‘কোনো আলোচনা ছাড়া’ সেগুলো ‘তড়িঘড়ি’ পাস করেছে। তাতে আগের দুর্বলতাগুলো রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, প্রতিটি আইনকে সমাজের নীরিখে যাচাই করতে হয় এবং নতুন সরকার যেন আইনগুলো ফের পর্যালোচনা করে মানবাধিকার রক্ষার জায়গাগুলো উন্নততর করার সুযোগ কাজে লাগায়।
তবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন আইনগুলোকে ‘দরকারি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কোথাও সমস্যা থাকলে তা পরে সংশোধন করা যাবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশনে মেটার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার বলেন, ডেটা লোকালাইজেশনের বিধান থাকায় তারা বাংলাদেশে কার্যক্রম রাখা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে বর্তমানে পাস হওয়া উপাত্ত সুরক্ষা আইনটি মেটা বা গুগলের মত প্ল্যাটফর্মের জন্য ‘ইতিবাচক’।
ফেইসবুকে উসকানি ও গণমাধ্যমে হামলা প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।
টেলিনর এশিয়ার হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রত্যুষ রাও টেলিযোগাযোগ আইনের ৯৭ক ধারা এবং এনটিএমসির বদলে তৈরি নতুন সংস্থার কাজের পরিধি নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহজে পৌঁছানোর সুযোগ এবং এর ফলে সৃষ্ট আস্থার সংকটের বিষয়টি বলেন।
দেশি স্টার্টআপ শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক অভিযোগ করেন, পলিসি আলোচনায় স্থানীয় ছোট উদ্যোক্তারা কথা বলার সুযোগ পান না।
অপর একটি প্যানেলে অনন্য রায়হানসহ বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সবশেষে ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এককভাবে সরকার বা কোম্পানির বিষয় নয়। এতে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সবার মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে।