Published : 16 Apr 2026, 06:58 PM
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ২৯ জনের নিয়োগ ও পদোন্নতি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দিয়েছে।
ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- বিটিআরসির উপপরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এসএম আফজাল রেজা।
আদালতে রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানিকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বলেন, হাই কোর্ট বিভাগ বুধবার শুনানি শেষে বিটিআরসির মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত গত ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিলের বদলির আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বরের বদলির আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয়।
রিটে বলা হয়, ইতোপূর্বে রিট আবেদনের কারণে সেই দুই কর্মকর্তা বিটিআরসিতে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। বিটিআরসির বিভিন্ন বেআইনি নিয়োগ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ায় তারা উচ্চ মহলের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যে তাদের দুইজনকেই একাধিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার তাদের ঢাকার বাইরে বেআইনিভাবে সরকারের অনুনোমোদিত সিলেট ও রংপুরে ‘মনিটরিং স্টেশনে’ বদলি করা হ। তাদের যে অবস্থানে বদলি করা হয়েছে, তা তাদের পদক্রমের নিম্নপর্যায়ের দায়িত্ব। এছাড়া উপপরিচালক পদের কর্মকর্তাদের এই ধরনের বদলির আদেশ বিটিআরসির ইতিহাসে প্রথম।
রিটে আরও বলা হয়, বিটিআরসির প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ও ২০০৮ সালে প্রণীত পদ তৈরির আদেশের কোথাও ‘মনিটরিং স্টেশনে’ উপপরিচালক পদ বলে কিছু নেই। যেহেতু বিটিআরসির আইন মেনে ঢাকার বাইরে সরকার অনুমোদিত বিটিআরসির কোনো শাখা অফিস নেই, সেহেতু কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে কোনো পূর্ণকালীন বদলির আদেশ দিতে পারে না।
আইনজীবী শিহাব উদ্দিন বলেন, বিটিআরসির ছয়জন উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির ‘অবৈধভাবে’ ২৯ জনের নিয়োগ ও পদোন্নতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
পরে হাই কোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ গত ৫ মার্চ শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বরের চিঠি অনুসারে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
সেইসঙ্গে ‘গুরতর আর্থিক অনিয়ম’ তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির জন্য গত বছরের ৩ নভেম্বর গঠিত ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি’ বা ডিপিসির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েও রুল জারি করেন ।
আইনজীবী শিহাব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করার পরপরই দুই উপ পরিচালককে ঢাকার বাইরে বদলি করার ঘটনায় বিটিআরসিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই দুইজনকে বদলি করা হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী দুইজন হাই কোর্টে বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অডিট উইং এর যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ও মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।