Published : 23 Dec 2025, 07:38 PM
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১০ দেশের দূতাবাসে কর্মরত ৩৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্থার সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে প্রধান করে পুনর্গঠিত অনুসন্ধান দলে আরও রয়েছেন উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা ও রোমান উদ্দিন।
কমিটি পুনর্গঠনের কথা জানিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান আছে।”
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি সৌদি আরব, চীন, দুবাই, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, ফিলিপিন্স ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত রাষ্ট্রদূত, হেড অব চ্যান্সারি এবং প্রধান কনস্যুলার পদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
দুদক কর্মকর্তা আকতার বলেন, তদন্ত দলের সদস্যদের বদলি এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বদলের কারণে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি দ্রুত তথ্য সংগ্রহসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেবে এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্মরত অবস্থায় ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগ কমিশনে আসার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বড় একটি অংশ অডিট (নিরীক্ষা) সংক্রান্ত। মূলত সেই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতেই অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে।
দুদকের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালে দুদকে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ওই অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি দূতাবাস ও হাই কমিশনের রাষ্ট্রদূত, সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুদক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ ওঠা ৩৮ কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চায়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল, পদবি, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিতে অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আগের কর্মস্থল, দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা এবং তৎকালীন পদবির তথ্যও চাওয়া হয়।