স্ত্রী মোছা. আফরোজা ও ১৭ বছর মেয়ের সঙ্গে কানাডায় চলে যাওয়া আশরাফুল আলম সুমন, যাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে পুলিশ।
Published : 04 Jun 2023, 11:37 PM
ঢাকার দক্ষিণখানে স্ত্রীকে হত্যা করে পুঁতে রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি জানিয়ে পুলিশ বলছে, মামলার মূল আসামি ও তার স্বামী আশরাফুল আলম সুমনকে আনতে ইন্টারপোলে চিঠির পাঠানোর কাজ করছে তারা।
একদিনের রিমান্ড শেষে গ্রেপ্তারদের থেকে কোনো তথ্য না পেয়ে রোবরার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ভাসানটেক থানার এসআই রেজিয়া খাতুন জানান।
বুধবার রাতে দক্ষিণখানের নদ্দায় মোছা. আফরোজার (৪০) মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তখন পুলিশ জানিয়েছিল, আফরোজার স্বামী আশরাফুল ভিডিও কলে কানাডা থেকে জানিয়েছিলেন আফরোজাকে হত্যার পর কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছিল।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর আশরাফুল তাদের ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে কানাডা চলে যান। পরে এ ঘটনায় আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম আশরাফুলসহ তার বাবা শামছুদ্দিন আহমেদ, ভাই সজীব আলম, ভাবি তাহমিনা বাসার ও খালা পান্না চৌধুরীকে আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজিয়া খাতুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চারজনের মধ্যে একজন আইনজীবী থাকায় মূলত তার পরামর্শেই অন্যরা খুব একটা কথা না বলে ‘আমরা কিছু জানি না, খুনের ঘটনার সবটাই আশরাফুল জানে’ বলে এড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
তদন্ত অব্যাহত আছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আশরাফুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেজিয়া খাতুন বলেন, “আশরাফুল কবে দেশে এসেছে, কবে গেছে এসব প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
“হত্যা ও লাশ গুমের সঙ্গে আশরাফুলের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে।”
পুলিশ আরও বলছে, আফরোজার আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে মায়ের সঙ্গে কানাডায় থাকতেন। ছেলে কানাডায় আলাদা থাকেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে আশরাফুলের সঙ্গে ঢাকায় আসেন আফরোজা।
পুরানো খবর:
খুন করে পুঁতে রাখা হয়েছিল গৃহবধূকেমামলার বরাতে পুলিশ আরও জানায়, তারা কানাডায় বিয়ে করলেও ঢাকায় আসার কয়েকদিনপর আফরোজার নীলফামারী গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে ১২ মার্চ তারা ৪৯ লাখ টাকার দেনমোহরে কাবিননামা করে। নীলফামারী থেকে ৮ মে ঢাকায় দক্ষিণখানের বাসায় আসে।
এরপর থেকে আফরোজা মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায়ই ছিলেন। খুন হওয়ার পর দক্ষিণখানে বাড়ির সীমানায় লাশ পুঁতে রাখা হয়।
পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে কানাডায় চলে যাওয়া স্বামী আশরাফুল পুলিশের কাছে পুঁতে রাখার বিষয়টি জানালে লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপরেই পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজিয়া খাতুন জানান, যে বাড়িতে আফরোজা খুন হন সেই বাড়িতে আশরাফুলের বাবা ভাইয়েরা থাকলেও তাদের না জানার বিষয়টি রহস্যজনক।
কানাডায় ভাইয়ের হেফাজতে বোন
১৭ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে কানাডায় চলে যাওয়ার পর খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ওখানে থাকা আফরোজার ছেলে আবরার হোসেন অন্তুকে (২২) জানান তার বাবা আতাউল্যাহ মণ্ডল।
এদিকে কানাডায় থাকা অন্তু ও তার বোনের সঙ্গে এসআই রেজিয়া খাতুন কথা বলেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “অন্তু সেখানকার পুলিশের সহায়তা নিয়ে তার বোনকে আশরাফুলের থেকে নিজ হেফাজতে নিয়েছে। এখন ভাই-বোন একসঙ্গে আছে। তাদেরকে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করেছেন।
তারা সেখানে বেশ আতঙ্কে রয়েছেন; তবে সেখানকার পুলিশ তাদের দেখভাল করছে বলে মামলার বাদী ও তাদের মামা আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন।