Published : 03 Mar 2026, 01:33 PM
রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসায় ডাকাতির সময় হামলায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ই ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের একটি বাসায় সোমবার তারাবির নামাজের সময় রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে তুরাগ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রেজিনা মমতাজ নামের ৬৬ বছর বয়সি ওই নারী ও তার স্বামী মাহে আলম ওই বাসার তিনতলায় থাকতেন, বাড়িটি এই দম্পতির নিজেদের।
ওসি রফিক আহমেদ বলেন, “মাহে আলম তারাবির নামাজ পড়তে যান, এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বাসার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।”
মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে রেজিনা বেগমের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে আসা হয়।
ডাকাতির এই ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে বলেন, ঘটনার আগে ওই বাড়ির চারতলার ভাড়াটিয়া নূরে আলম নীচে নেমে দারোয়ানকে কিছু একটা কিনতে পাঠায়। এই সুযোগে এক ব্যাক্তি বাইরে থেকে এসে নূরে আলমের সঙ্গে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, “সেখানে মুখে মাস্ক পরা দুজনকে দেখতে পেয়ে দারোয়ানের স্ত্রীর সন্দেহ হয়। তারপর তিনি তার স্বামীকে ডেকে এনে তিনতলায় বাড়িওয়ালার দরজার সামনে যান। কিন্তু দরজা লক থাকায তারা বাসায় ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দও তারা পাননি। পরে বাড়ির মালিককে মসজিদ থেকে ডেকে আনা হয়।
“তারপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখেন মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় রোজিনা মমতাজ পড়ে আছেন। এবং পুরো বাসা তছনছ করা। পরে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
পুলিশ বলছে, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও এবং দারোয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চারতলার ভাড়িটিয়া নূরে আলমকে কৌশলে ডেকে আনে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাকে বলি যে ‘আপনার বাসায় পানি পড়ছে বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে তাড়াতাড়ি আসেন’, এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
মাকে এমন কিছু বলা হয় যাতে তিনি দরজা খুলে দেন
রেজিনা মমতাজে ছেলে রায়সুল আলম বলেন, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে তাদের বাড়িটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। চারতলা পর্যন্ত বাসযোগ্য করা হয়েছে। দোতলা একটি অফিস ও চারতলা একটি পরিবারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তিনতলায় তার বাবা-মা থাকেন।
তার বাবা মাহে আলম সোনালী ব্যাংকের সাবেক জিএম। সোমবার রাতে তিনি তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। এ সময় মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাসায় ঢোকে। ঘণ্টাখানেক পর তারা বেরিয়ে যায়।
রায়সুল আলম বলেন, “কিছুক্ষণ পর বাসার দারোয়ানের স্ত্রী আমার মাকে ডাকতে গিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে 'লকড'। ভেতরের টিভির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে শব্দ না পেয়ে ওই নারী তার স্বামীকে বিষয়টি বলেন। এরপর বাসার দারোয়ান মসজিদ থেকে বাবাকে ডেকে আনেন।
“সঙ্গে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাবা দেখতে পান মাকে তার হাত বিষমুড়া করে বেঁধে, চোখে নাকে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে মুখ থেকে টেপ খুলে দেওয়া হলেও তিনি রেসপন্স করছিলেন না। তার মুখে কাপড় গোঁজা ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।”
রায়সুল আলম বলেন, তারা দুই ভাই এবং দুজনেই কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন। বাসায় ঢোকার মুখে ও তাদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে ক্যামেরা লাগানো ছিল।
“ফ্লাটের দরজার সামনে ক্যামেরায় দেখা গেছে দুর্বৃত্তরা হাত দিয়ে এটি ডিসকানেক্ট করে দিয়েছে। আমাদের বাসার দরজাটা বাইরে থেকে চাবি ছাড়া খোলা যায় না। সেটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। হত্যাকারীরা নিশ্চয়ই মাকে এমন কিছু বলেছিল যাতে মা ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিয়েছিল। আমাদের চারতলার ভাড়াটে সেই সময় এমন কিছু করছিলেন যে কারণে তাকে সন্দেহ করছে পুলিশ।"