Published : 12 Mar 2026, 04:34 PM
তুরস্কের একটি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মীর হাত ধরে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তুরস্কে গিয়ে কয়েকজন রোগী প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এই অভিযোগ পেয়ে র্যাব ওই কর্মীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নুরুজ্জামান রাজু নামের ওই কর্মী নিজেই একটি ওয়েবসাইট খুলে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
এই রাজু ও তার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার র্যাব জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ঢাকার গুলশানে অফিস নিয়ে ‘টার্কিশডক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সেখানকার বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাজু।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে রাজু একইস্থানে অফিস খুলে কার্যক্রম চালাতে থাকেন। আসল প্রতিষ্ঠানের হুবহু নকল ‘টার্কিশডক বিডি’ নামে ওয়েবসাইট খুলে শুরু করেন প্রতারণা।
সেই থেকে এই রাজুর চক্রটি বিপুল সংখ্যক রোগীকে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তুরস্কে পাঠিয়ে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকে।
র্যাব জানায়, সবশেষ গেল ফেব্রুয়ারিতে নিরব নজরুল লিখন নামে একজন তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রাজুর সঙ্গে ২৩ হাজার ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন।
সে অনুযায়ী মাকে নিয়ে তুরস্কে যাওয়ার পর ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও কিডনি প্রতিস্থাপন না করেই দেশে পাঠিয়ে দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে লিখন ঢাকার শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করেন, যেটির তদন্তে নেমে নুরুজ্জামান রাজুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন-মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ তরিকুল, সালমান ফারসি ও ওয়ালিদ মিয়া।
ঢাকার মিরপুরে র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, চক্রটি বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ‘টার্কিশডকের’ ওয়েবসাইট অবিকল নকল করে ‘টার্কিশডক বিডি’ নামে ওয়েবসাইট খোলে।

তারা কিডনি প্রতিস্থাপন, আইভিএফসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে অর্থ আদায় করে আসছিল।
এ চক্রের মাধ্যমে তুরস্কে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন দেশটির জেলে থাকার তথ্য পাওয়ার দাবিও করেছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, এরকম আরো কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পরবর্তী তদন্তে বিষয়গুলো সামনে আসবে।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “এর আগে রাজু আরেকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। সেই সুবাদে তার সাথে বিভিন্ন ধরনের রোগীদের একটা যোগাযোগ ছিল।
“এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত দেশের বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর নামে প্রতারণা করে আসছিলেন।”
তিনি বলেন, গেল তিন বছরে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে রাজু শতাধিক রোগীকে তুরস্কে পাঠিয়েছে। র্যাবের সঙ্গে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন যোগাযোগ করেছে।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “প্রতারণার অর্থ দিয়ে রাজু ঢাকা শহরে গাড়িবাড়ি করে ফেলছে।”
ভুক্তভোগী লিখন বলেন, “আমার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ২৩ হাজার ডলারে চুক্তি হয়েছিল। আমি তার একটা অংশ বাংলাদেশে দিয়ে গিয়েছিলাম। ওইখানে যাওয়ার পরে নানা তালবাহানা করতে থাকে। রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়ার কথা, সেটিও দেওয়া হচ্ছিল না।”
সেখানে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের একটি কাগজে সই নেওয়া হয়, কয়েক ধাপে প্রায় ৪৬ হাজার ডলার তার কাছ থেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ লিখনের।
তিনি বলেন, পরে দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে মূলহোতা রাজু পাল্টা তাকে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। পরে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেন তিনি।
হাসান মাহমুদ নামে আরেক ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তুরস্কে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গেও ২৩ হাজার ডলারে চুক্তি করে আদায় করা হয়েছিল ৮০ হাজার ডলার। পরে আরো ১০ হাজার ডলার চেয়ে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে, বলেন এই ব্যক্তি।