Published : 04 May 2026, 05:54 PM
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কমানোর পক্ষে নন, বরং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এই বয়সসীমা আরও বাড়ানোর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সোমবার দুপুর ৩টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী বিচারকদের বয়স, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম, প্রধান বিচারপতির এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কী না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। আমরা বলেছি, এটি আলোচনার ফোরাম নয়। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কমিটি হবে, সেখানে বিষয়টি উঠলে ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা হবে; কারণ এর সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জড়িত।”
বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমি যদি সেই কমিটির সদস্য থাকি, তবে আমি বয়স কমানোর পক্ষে নই আমি বাড়ানোরই পক্ষে। তবে আমৃত্যু নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন ব্যবস্থা আছে। বিচারপতিদের অভিজ্ঞতা যত বেশি হবে, আমরা তত বেশি আইনি সেবা পাব। যেমন আমেরিকায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে আমাদের মাননীয় বিচারপতিদের অবসরের বয়স বর্তমানে যা (৬৭ বছর) আছে, সেটি কমানোর জন্য কেউ উদ্যোগ নিলে, কী কারণে নিচ্ছেন তা আমরা বিবেচনা করব।”
আসন্ন বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ কোনো বরাদ্দ থাকছে কী না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি অত বেশি আশাবাদী নই। আপনারা আশা করেন। তবে দেখব কতটুকু আনা যায় ।”
সচিবালয়ের কেউ কেউ বিচার বিভাগকে ‘সুপার স্বাধীনতা’ দেওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কী না এমন প্রশ্নে আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকার বলতে এখানে আইন মন্ত্রণালয়কে বোঝায়। আইনমন্ত্রী হিসেবে এ ধরনের কোনো কথা আমরা বলিনি। সুতরাং অন্য কে কী বলল, সেটা আমি আমলে নিচ্ছি না।”
প্রধান বিচারপতির এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধের ‘একগুঁয়ে’ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, “প্রধান বিচারপতি একগুঁয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন-এ কথার সঙ্গে আমি একমত নই। এটি তার একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার কারণ তিনি ভালো জানেন।”
তবে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার এবং প্রধান বিচারপতিরও দৃষ্টিতে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি তার মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবেন। তবে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে দরকষাকষি (বার্গেনিং) বা কোনো প্রভাব বিস্তারের জন্য যাওয়াটা আমি ঠিক মনে করি না।”
পলাতকদের ফেরানোর উদ্যোগ
সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ যাদের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে বা যারা ভারতে পলাতক আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে।”
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম, মব জাস্টিস ও শাপলা চত্বর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, “মামলার সংখ্যা বাড়াটা আমাদের কাছে উদ্বেগের বিষয় নয়। অপরাধের বিচার হতে হবে। আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয় হল ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না। আমরা সেটিই করব।”
রহিত হওয়া অধ্যাদেশগুলো কবে নাগাদ সংসদে উঠবে না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “বাজেট অধিবেশনে না উঠলে পরের অধিবেশনে উঠবে। চলতি মাসের ১৭ তারিখ আমরা মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম সংক্রান্ত আইনের (এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ল) বিষয়ে কনসালটেশন (পরামর্শ) সভার ডাক দিয়েছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এগুলো সামনে আনা হবে।”
৫ অগাস্টের পর সংঘটিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে কি না জানতে সাংবাদিকরা জানতে চান।
আইনমন্ত্রী বলেন, “মব সিস্টেমেটিক বা পূর্বপরিকল্পিত নয় এটি জনগণের একটি রিঅ্যাকশন। এটি যদি সাধারণ অপরাধের মধ্যে পড়ে, তবে সাধারণ আইন অনুসারেই দেখা হবে। এর বিচার ট্রাইব্যুনালে করতে গেলে যেকোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবকে অসম্মান করা হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনাগুলো আমরা দেখব।”
শাপলা চত্বর গণহত্যার ১৩ বছর পূর্তির আগে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন টিম যখন কাজ করছে, এটি সরকারি নীতির বাইরের কিছু নয়। সরকারের পলিসি আছে বলেই প্রসিকিউশন টিম তাদের নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।”