Published : 26 Mar 2026, 05:19 PM
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ চার সহকারী পুলিশ সুপার-এএসপিকে চাকরি থেকে অপসারণ করেছে সরকার।
এই চার কর্মকর্তা হলেন- সাজিদ বিন কামাল, রতন বালা, মো. আব্দুল আজিজ ও তাহমিদ আহমদ।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৪৩তম ব্যাচের চার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৬(২) (এ) অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হল।”
ওই বিধিতে বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশির মেয়াদ চলাকালে কোনো শিক্ষানবিশ সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার অযোগ্য বিবেচিত হলে, সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরমর্শ না করেই সরকার তার নিয়োগের অবসান ঘটাতে পারবে।
তবে কী কারণে ওই চারজনকে ‘সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার অযোগ্য’ বিবেচনা করা হল, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বরে, যাতে অংশ নিতে বিসিএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জনের জমা পড়েছিল।
কোভিড মহামারীর মধ্যে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ জন প্রার্থী অংশ নেন।
পরে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলে ২ হাজার ৮০৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। তাদের মধ্যে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন ২ হাজার ১৬৩ জন।
তবে নিয়োগের আগের প্রজ্ঞাপন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপর প্রথম সুপারিশ করা ২ হাজার ১৬৩ প্রার্থীর মধ্য থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪০ জন এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বিবেচনায় সাময়িকভাবে অনুপযুক্ত ২২৭ জনসহ মোট ২৬৭ জনকে বাদ দিয়ে ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগের দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বাদ পড়ারা অনশনসহ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে আান্দোলন করে। পরে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েও বাদ পড়া ১৬২ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।