১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ ও জুলাই সনদের প্রতি ইতালির সমর্থন

একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ ও জুলাই সনদের প্রতি ইতালির সমর্থন
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। ছবি: পিআইডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jan 2026, 12:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:36 PM

বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের’ লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইতালি। 

একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি (উপমন্ত্রী) মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে এসব বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাতে দুই নেতা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

জুলাই সনদের প্রশংসা করে ইতালীয় উপমন্ত্রী বলেন, দলিলটিতে বর্ণিত ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির প্রতি ইতালি ‘সমর্থন’ জানায়। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তরের’ প্রতিও রোমের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। ছবি: পিআইডি

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন

আলোচনায় মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক শক্তির নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এবং ইতালি এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে মিলিতভাবে আগামী দিনগুলোতে একটি যৌথ পথ নির্ধারণে ইতালি আগ্রহী।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা ‘ভালোভাবেই’ দেশটির সমাজে একীভূত হচ্ছে। 

তবে একই সঙ্গে তিনি ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি মিলানো–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসা ইভেন্ট হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিলেন।

তিনি জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে, সেখানে বৈধ অভিবাসন সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বড় একটি দল পাঠানোর জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশংসা করেন।

ইউনূস বলেন, তিনি ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। গত ১৬ বছরে ‘ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী’ শাসনামলে হওয়া ‘ভুয়া নির্বাচনগুলোতে’ অনেক তরুণ ভোট দিতে পারেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য ইতালির সমর্থন কামনা করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

অন্যদের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সভায় উপস্থিত ছিলেন।