Published : 02 May 2026, 02:31 PM
সিলেটের কাশিপুরে বাসিয়া নদী পূনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “এই যে বাসিয়াতে যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা, এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খালটা চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে না? এই খালটা আমরা কাটতে চাই। কেন কাটতে চাই?
“এই খালটা যদি আমরা কাটি প্রায় ৮০ হাজার কৃষকের প্রথমত, সরাসরি উপকার হবে। আর ৮০ হাজারের বাইরে দেড় লক্ষ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। প্রায় এই খালটা কাটলে আপনারা যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে…ফসল যে উৎপাদন হয় প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।”
তিনি বলেন, “শুধু এই খাল না সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ আমরা যদি খালগুলো করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে।
“আপনারা দেখেছেন এই সরকার হচ্ছে কৃষকবান্ধব সরকার। আমার মনে আছে, এই যে নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমরা কৃষক ভাইদেরকে কৃষি কার্ড প্রদান করব। আমরা কিন্তু এর কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের এই উদ্বোধনটা করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব। ”
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ঋণের সুবিধা, সার, বীজ ও কীটনাশকের সুবিধা সরকার থেকে সরাসরি দিতে পারার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা, তারা বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবে, যেটা দিয়ে তারা নিজেরা কীটনাশক ওষুধ বলেন, বীজ বলেন, এই কাজ এই জিনিসগুলো তারা সরাসরি কিনতে পারবে। সরকার থেকে সরাসরি আমরা তাদেরকে এই অর্থ সাহায্যটা করব।”
কৃষকদের ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা চাই এদেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক।”
যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে সেটি হচ্ছে তার সরকারের লক্ষ্য, বলেন তারেক রহমান।
দেশের ৬০টি জায়গা ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, বাসিয়া খাল পূনঃখননের কাজ শুরু হল। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এরইমধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার, তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হল, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এবছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনা মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে আমরা পুন:খনন করতে।”
শুধু খাল খনন নয়, ২৩ কিলোমিটার খালের দুই পাশে প্রায় ৫০ হাজার গাছ রোপণ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “যেই বৃক্ষরোপণ করলে খালটাকেও ধরে রাখতে পারবে, এলাকার মানুষরাও বসা জায়গা হবে গাছের তলায় এবং আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলদ গাছও রোপণ করতে, যাতে করে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে।”
‘এখন কাজ করতে হবে’
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে। এই দেশের জনগণের কাছে, সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।”
এ সময় তিনি কৃষক কার্ডের পর ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু করার কথা বলেছেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “অনেকে হয়ত বলতে পারেন, আমাদের এলাকায় তো এখনো পাইনি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের এলাকায় তো সবাই পাবেন…একটু সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশের নারীদেরকে, মায়েদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।”
‘বন্ধ কলকারখানা চালু হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কথা কম, কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা বলেছিলাম এই একটু আগে এই সিলেট সিটি করপোরেশনে একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে কয়েকজন বক্তা বলেছেন, এই সিলেট জেলাতে বা সিলেট এলাকাতে সামগ্রিকভাবে সিলেট বিভাগে মিল কারখানার সংখ্যা কম। ফলে অনেক যুবক ছেলে বেকার হয়ে পড়ে আছে।
“আমরা নির্বাচনে আগে বলেছিলাম যে দেশে যে সকল কল কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল কারখানাগুলো আমরা চালু করব।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকা শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে দেখিয়ে বলেন, “এই যে এখানে আপনাদেরই সন্তান বসে আছে মুক্তাদির। মুক্তাদির হচ্ছেন শিল্পমন্ত্রী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে মুক্তাদিরের কাছে।
“নির্বাচনের পর প্রায় পাঁচ সাত দিনের মধ্যে আমি মুক্তাদিরকে নিয়ে বসেছিলাম যে কোথায় কোথায় বন্ধ কলকারখানা আছে। ইনশাল্লাহ ধীরে ধীরে সেগুলো চালু করব। এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এক নম্বর কাজ হচ্ছে এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।”
দেশের বাইরেও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা যদি সাথে থাকেন, আপনারা যদি পাশে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হব, বাংলাদেশকে অন্য উন্নত দেশ আছে, তাদের পাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হব।
“কাজেই সব সময় একটা কথা বলি, কাজ, কাজ আর কাজ। সেজন্যই করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
এ সময়ে সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ছাড়াও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাসিয়া নদীটি পূনঃখনন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।