সহপাঠীকে যৌন নিপীড়ন: ঢাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ‘প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায়’ কবির আহমেদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 03:15 PM
Updated : 4 August 2022, 03:15 PM

সহপাঠীকে যৌন নিপীড়নের ‘দায়ে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী কবির আহমেদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ‘প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায়’ কবির আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সহপাঠী কবির আহমেদ কৌশিকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে যৌন নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী।

দুই দিন আগে ‘নির্যাতনের’ শিকার হয়েছেন জানিয়ে লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেন, বিভাগের সহপাঠী কৌশিক ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ফোন করে সেমিনার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য দেখা করতে বলে। বেলা সোয়া তিনটার দিকে গ্রন্থাগারে এসে ওই ছাত্র আচমকাই তাকে জড়িয়ে ধরেন। সেখানে তখন অন্য কেউ ছিলেন না।

“ঘটনার আকস্মিকতায় আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। সেমিনার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ছাত্র বাধা দেন এবং অশালীন আচরণ করেন। তখন আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় ওই ছাত্র আবারও দৌড়ে এসে আমার পথ আটকে যৌন নিপীড়ন করেন।"

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে গেলে সেখানেও ওই সহপাঠী তার পিছু নেয়।

তিনি বলেন, “এরপর গ্রন্থাগারে উপস্থিত বড় আপুদের কাছে বিষয়টি জানালে তারা আমাকে বাসায় নিয়ে আসেন।

“পরে সেদিন সন্ধ্যা থেকে সে আমাকে লাগাতার ফোন করতে থাকে। আমি একবারও ফোন ধরিনি। আমি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি যে বাসায় ফেরার পর আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাই।”

ওই ছাত্রীর ভাষ্য, ঘটনার পরদিন দুপুরে ওই ছাত্র তার বাসায় গিয়েও দরজায় সজোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। তিনি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর কাছে নিজেকে বড় ভাই পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে এসেছেন বলে জানান। এ কথা শুনে দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেন।

“এরপর ওই ছাত্র দরজার বাইরে থেকে চিৎকার করে তার নাম ধরে ডাকতে থাকেন। এ সময় গৃহকর্মী ও আমি ছাড়া বাসায় কেউ ছিলেন না। গৃহকর্মী বাসায় কেউ নেই বলার পরও ওই ছাত্র দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন এবং দরজা না খোলায় সিঁড়িতে বসে থাকেন। পরে দারোয়ান এসে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। কিন্তু সন্ধ্যায় আমি বাসা থেকে বের হলে ওই ছাত্র বাসার সামনের রাস্তায় পথ রোধ করে আবারও আমাকে বিরক্ত করেন।”

এ পরিস্তিতিতে কোনোমতে একটি রিকশায় উঠে ওই স্থান ত্যাগ করার কথা জানান ওই ছাত্রী।

এ ঘটনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কথা অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই ছাত্রী। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলেও তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় সংবাদমাধ্যমেও কবির আহমদ ওই ছাত্রীর সঙ্গে 'অসদাচরণের' কথা স্বীকার করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক