ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ৬ মাসে নিষ্পত্তির আদেশ

ঘুষের মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের বরখাস্ত এই কর্মকর্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 02:43 PM
Updated : 25 July 2022, 02:43 PM

পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সোমবার এ মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে মিজানের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচারিক আদালতে মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা বিচারাধীন। এই মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।”

আইনজীবী মাহবুব শফিক বলেন, “মিজানুর রহমানের জামিন চেয়ে গত সপ্তাহ এই আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে জামিন না দিয়ে মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।”

ঘুষ লেনদেনের মামলায় তিন বছরের জন্য দণ্ডিত পুলিশের বরখাস্ত কর্মকর্তা মিজানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৪ জুন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানের সঙ্গে তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার ওরফে রত্মা রহমান, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি ৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

এরপর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আসিফুজ্জামান এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

ওই মামলা থেকে বাঁচার আশায় দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দায়ে আরেকটি মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ মিজানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ওই মামলায় ১৩ এপ্রিল তাকে দুই মাসের জামিন দেয় হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে বলে তার আইনজীবী মাহবুব শফিক জানিয়েছেন।

এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানুরকে। চার মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এক হাত ঘুরে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক বাছির।

অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান ওই বছরের ৮ জুন দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির।

এর প্রমাণ হিসাবে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি ‘অডিও ক্লিপ’ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর দেশ জুড়ে শুরু হয় আলোচনা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক