Published : 17 Jun 2026, 11:29 PM
ফ্যামিলি কার্ডের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগের প্রসঙ্গ সংসদে তুলেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্য, তবে ক্ষমতাসীন দলের আপত্তিতে তা ‘এক্সপাঞ্জ’ করে দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।
বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রসঙ্গটি তোলেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান।
তিনি বলেন, ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হিসাব করলে ওয়ার্ডপ্রতি প্রায় ৯০টি পরিবার এই সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, “তাহলে বাকি যেসব দরিদ্র পরিবার আছে, তাদের অবস্থাটা কী হবে? এবং এইটা পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলাতে ইতোমধ্যে দেখেছি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা প্রতিদিনের রিপোর্ট আছে।”
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন তার এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন।
তিনি বলেন, “মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদে ভাষা জানতে হবে। সেভাবে বলতে হবে।”
বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, মেহেরপুর-১ আসনের সদস্য তার বাজেট বক্তব্যে বলেছেন ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই বক্তব্যটা এক্সপাঞ্জ চাচ্ছেন। এইটাই তো আপনার বক্তব্য?”
খোকনের সম্মতির পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমিও শুনেছি এরকম কথা বলেছেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে আপনি দাঁড়িয়েছেন। এই স্টেটমেন্টটা ‘এক্সপাঞ্জ’ করা হলো।”
ফ্যামিলি কার্ডের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগটি উঠেছে ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে এক নারী কোতোয়ালী থানায় এ অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় সুজন শেখ (৩৫) নামে একজনকে বিবাদী করেছেন তিনি।
বিরতির পর ব্যাখ্যা তাজউদ্দিনের
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বক্তব্যটি অসত্য বা অসংসদীয় না হলে এক্সপাঞ্জ করার কারণ নেই। এরপর ডেপুটি স্পিকার তাজউদ্দিন খানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেন।
তাজউদ্দিন বলেন, “আমার আলোচনার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অনেক জায়গায়, আমি এটা ব্যবহার করেছিলাম। অবশ্য এই কথাটার উপর মাননীয় সদস্য আপত্তি করেছিলেন শুনেছি। যে তথ্য আমার কাছে ছিল তা সময়ের অভাবে দিতে পারিনি।”
তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরে সোনাগাজী থানাতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয়। ওসি সাহেব এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে এটা প্রমাণ হয়েছে।”
আরেকটি একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহ-সম্পাদক এনামুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে।”
তাজউদ্দিনের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প “শুধু প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের নয়, সারা দেশের মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
“এই প্রকল্প সম্পর্কে যেহেতু একটা অভিযোগ এনেছেন, আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এটা কোনো ক্লারিফিকেশন দিতে পারেননি। সে কারণে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত লাইনটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।”