সৌরবিদ্যুৎতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া লক্ষ্য পূরণের আশ্বাস টুকুর
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করেই থেমে থাকেননি, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।
বক্তৃতা নয়, আট মাসের একটি গল্প শোনাতে চেয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেই গল্পে ছিল নির্বাচনে জয়, সরকার গঠন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কঠিন লক্ষ্য আর তা পূরণে কয়েক মাসের প্রস্তুতির কথা।
মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেই গল্প শোনান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী বলেন, “আসলে আমি আজকে বক্তব্য দেব না। আমি একটা গল্প বলব। সে গল্পটা হচ্ছে আমাদের আট মাসের গল্প।”
এরপর নির্বাচনে জয়লাভ ও সরকার গঠনের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাকে দিলেন, তখনই এক বছরের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ আনার লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করেই থেমে থাকেননি। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।
গত কয়েক মাসে সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আইনি কাঠামো তৈরির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে আমরা খুব গর্বের সাথে বলতে পারি, যে সোলার বিদ্যুতের জন্য যে অবকাঠামো, যে আইন লাগে সে আইন আমরা এই কয় মাসের মধ্যে তৈরি করেছি।”
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই আইন সংসদে উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই প্রস্তুতির ওপর ভর করেই এক বছরের লক্ষ্য পূরণের আশ্বাস দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি আশ্বস্ত করতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এক বছরের মধ্যে দিতে পারব।”
শুধু এক বছরের পরিকল্পনা নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুতের অংশ ২০ শতাংশে নেওয়ার এবং ২০৪০ সালে তা ৩০ শতাংশ করার লক্ষ্যের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তার হিসাবে, ওই সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তবে বিদ্যুৎমন্ত্রী শুধু বড় প্রকল্পের মধ্যেই সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা দেখছেন না। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ছাদকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগাতে চান তিনি।
বিশেষ করে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের কারণে মানুষের ভোগান্তি কমাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেন টুকু।
তিনি বলেন, “আগামী গ্রীষ্মে যাতে মানুষের ভোগান্তি কম হয় গরমে, সেজন্য আমরা সোলার বিদ্যুৎ, রুফটপ সোলার এগিয়ে নিয়ে যাবো। যাতে প্রতিটি ছাদ যেন বিদ্যুৎ তৈরির কারখানা হয়।”
দেশের পল্লী বিদ্যুতায়নের ইতিহাস টেনে বিদ্যুৎমন্ত্রী একসময় গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড গড়ে তোলার কথা স্মরণ করেন। সেই উদ্যোগের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনার তুলনা করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একজন রাখাল রাজা এসেছিলেন। সে এসে স্বপ্ন দেখেছিল যে সারা গ্রামে, বাংলার গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ জ্বলবে। উনি তৈরি করেছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড।”
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আর আজকে আমাদের সামনে বসে আছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেতা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়বে সৌর বিদ্যুতের জন্য, রিনিউয়েবল এনার্জির জন্য।”
গত আট মাসে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান টুকু।
সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা একসাথে কাজ করি, বাংলাদেশকে আমরা 'গ্রিন হাউস' বানাই।”
বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে দুই দিনের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত প্রদর্শনী শেষ হবে বুধবার। প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যাটারি, বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
