Published : 09 May 2026, 08:19 AM
তিন বছর বয়সি ছেলে ঘুমিয়েছিল। সন্তানকে স্বামীর কাছে রেখে নিজের জন্য ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন মা শিল্পী খাতুন। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে পান ছেলে হাবিবের লাশ।
গত ২৭ এপ্রিল ঢাকার বেরাইদ থেকে শিশু হাবিবের লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি তার বাবা শাহিনকে আটক করে। এ ঘটনায় পরদিন বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন শিল্পীর খালা বালিকা বেগম। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাহিনকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেরাইদ এলাকায় দুই ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন শাহিন ও শিল্পী। ২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শিল্পী ওষুধ কিনতে বাইরে যায়। শিল্পী বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর শাহিন দরজা বন্ধ করে রুমে ছেলে হাবিবকে গলাটিপে হত্যা করে।
ওষুধ কিনে বাসায় ফিরে শিল্পী বাসার দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। অনেক সময় ধাক্কাধাক্কির পর শাহিন দরজা খুলে দেয়। ঘরে ঢুকে শিল্পী তার ছেলে হাবিবকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পায়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা, বাড্ডা থানার এসআই জামাল হোসেন বলেন, “দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আসামি শাহিন মাদকাসক্ত ছিল।
“মায়ের সাথে আসামি দেখা করতে যাবে, এজন্য তার স্ত্রীর কাছে টাকা চায়। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে টাকা দেয়নি। এটা নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া হয়।”
পুলিশ কর্মকর্তা জামাল বলেন, “শিশুটিকে তার মা ঘুমিয়ে রেখে বাইরে ওষুধ আনতে যায়। আসামি ভেতর দিয়ে রুমের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে বাচ্চাকে গলা টিপে হত্যা করে।”
নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বাদী মোছা. বালিকা বেগম বলেন, “শাহিন নেশা করতো, আমার ভাগ্নিটাকে অত্যাচার করতো। অত্যাচার করতে করতে বাচ্চাটাকে খুন করলো। আগের দিনও টাকা নেয়। পরদিন আবার টাকা চায়। টাকা না দেয়ায় নিজের ছেলেটাকে খুন করল।”
গাইবান্ধার সাঘাটার হাসিলকান্দি গ্রামের শাহিন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসে জানিয়ে বালিকা বেগম বলেন, “কর্ম করতে ঢাকায় আসে। কর্ম করতে গিয়ে নেশায় ডুবে যায়। শিল্পী অসুস্থ, ঘাড় ব্যথা। আর ও একটু পান খায়।
“২৭ এপ্রিল শিল্পী ওষুধ আনতে যায়। সাথে করে নিয়ে যায় পাঁচ বছরের বড় ছেলেকে। হাবিব ঘুমিয়ে ছিল। এজন্য তাকে তার বাবার কাছে রেখে যায়।”
বাদী বালিকা বলেন, “শিল্পী বাসায় ফিরে এসে দরজা পেটায়। অনেক পেটানোর পরও দরজা খোলে না। মানুষজন জড়ো হতে থাকে।
“পরে শাহিন দরজা খুলে দেয়। শিল্পী রুমে ডুবে হাবিবকে মৃত অবস্থায় পায়। ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে শাহিন।”
বালিকা বেগম বলেন, “এ দৃশ্য দেখে শিল্পী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মানসিকভাবে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে সে আর কথা বলতে পারছে না।
“সেভাবে জ্ঞানও ফেরেনি। ওকে ওর মায়ের কাছে রেখে আসছি। সেখানে ওর চিকিৎসা চলছে।”
মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় শিল্পীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।