Published : 13 Apr 2026, 01:39 AM
ঢাকায় মশার দাপট কমাতে দুই সিটি করপোরেশন বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও মশার উৎপাত কি কমেছে?
দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, মশা কমেছে। কিন্তু নাগরিকদের অভিজ্ঞতা সে কথা বলছে না। মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে তারা বলছেন, মশা মারার ওষুধ ছিটাতে খুব কমই দেখছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার মহাখালী এলাকার টিঅ্যান্ডটি কলোনির বাসিন্দা আকরাম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলছিলেন, “মশার জন্য এখানে দাঁড়াতে পারছিলাম না, আপনি দাঁড়িয়ে দেখেন, কি পরিমাণ মশা।”
তবে টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টির কারণে মশার উৎপাত কিছুটা কমেছে বলে তার পর্যবেক্ষণ।
একই পর্যবেক্ষণ সেগুনবাগিচা এলাকার হেলাল উদ্দিনের। তিনি বলছিলেন, “সিটি করপোরেশনের কোনো কৃতিত্বের কারণে মশা কমেছে, এটা ভুল। দু্ই-তিন দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে, তাই মশা কিছুটা কমেছে।”
এই নাগরিকের বক্তব্য উড়িয়ে দিতে পারেননি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান।
তিনি বলছিলেন, “মশক কর্মীরা নিয়মিত ওষুধ ছিটাচ্ছে, পাশাপাশি দুই দিনের ঝড় বৃষ্টিতে মশা কিছুটা কমেছে।”
বর্ষা মওসুমের আগেই ঢাকায় উদ্বেগজনকভাবে মশার উৎপাত বেড়েছে।
জলাশয়গুলো আবর্জনায় ভরে যাওয়ার পাশাপাশি খোলা নর্দমা ও অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ওষুধ দিয়ে মশা কমানোর চেয়ে পরিষ্কার ও জনসচেতনতায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা বলছেন দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
তাদের দাবি, অপরিষ্কার নগরী ও অবকাঠামোগত কারণে ঢাকায় মশার উপদ্রব বেশি।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ফগিং মেশিনে মশা মারার কাজ চলছে। আগের তুলনায় মশা অনেক কমেছে।

তাদের মতে, ঢাকার আবর্জনা, ডোবা ও নালা পরিষ্কার হলে মশা অনেক কমে যাবে। সামনে তাদের মূল লক্ষ্য হল ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।
কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মশার বাড়ার উদ্বেগজনক তথ্য আসার পর পরিস্থিতি কী আদৌ বদলেছে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে ওই মাসের সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীতে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। মার্চে তাপমাত্রা আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল তখন।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশা বেশি দেখা যায়-কিউলেক্স, এইডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া ও জাপানি এনসেফালাইটিসের ঝুঁকি থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর উচ্চ প্রাদুর্ভাব ভাবাচ্ছে বেশি।
মাঠে আছেন মশক নিধন কর্মীরা?
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বকশীবাজার, চানখাঁরপুল, হোসনী দালান, বুয়েট, পলাশী ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও কাকরাইল এলাকার মূল সড়ক ও বিভিন্ন গলিতে ঘুরেও মশক নিধন কর্মী দেখা যায়নি।
যদিও গেল ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মশার ওষুধে কাজ হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য একটি কমিটি করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
এই কমিটি মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে ওষুধে মশা মরছে কিনা, তা দেখার কথা। একই সঙ্গে মশা নিধনে নিয়োজিত কর্মীরা ঠিকমতো কাজে যাচ্ছেন কিনা, সেটিও যাচাই করার কথা এই কমিটির।
কিন্তু মশা নিধনের কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রশাসক বদল হলেও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক নতুন পরিবেশের জন্য তাদেরকে এখন কিছু বলা যায় না।”

আবার আওয়ামী লীগের আমলের যারা আছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে তাদের কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেছেন, কেউ কেউ কাজে আসেন না নিয়মিত।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস দাবি করেন, “আজকে আপনি যে দুই এলাকায় ঘুরেছেন সেখানকার মশক কর্মীদের ট্রেনিং ছিল।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, মশা নিধনের কাজে এখন ১ হাজার ৩০ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে সাতজন ও বিকালে ছয়জন কর্মী মশার ওষুধ ছিটানোর কথা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে এ সিটিতে মশক নিধন কর্মী আছেন ১১১৪ জন।
বকশীবাজারের হোসনী দালান রোডের ১৩/২ বাসার নিরাপত্তা কর্মী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আগে প্রতিদিন দুইবার মশা মারার জন্য আসতো। ছয় সাত দিন আগে একবার দেখছি, কয়দিন ধরে আসে না।”
একই অভিজ্ঞতা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের কারো কারো।
এ নগর সংস্থার ১২ নম্বর ওয়ার্ড মিরপুরের আহমদনগরের একজন বাসিন্দা বলছিলেন, গেল ১৫ দিনেও তিনি বিকালে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি।
বৃহস্পতিবার বিকালে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরে মহাখালী, আমতলী, তিতুমীর কলেজ, ওয়্যারলেস গেইট, টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যায়নি।
তিতুমীর কলেজ এলাকার এক মুদি দোকানি বলছিলেন, “আগে প্রতিদিন মশার ওষুধ দিতো, কয়েক মাস ধরে চার পাঁচদিন পর পর আসে। গত সোমবার বিকালে দেখেছি, এর পরে আর খবর নাই।”
সিটি করপোরেশন কী কাজ করছে?
ঢাকা দক্ষিণে ৭৫টি এবং ঢাকা উত্তরে ৫৪টি ওয়ার্ড। দুই সিটি মিলে ঢাকা নগরীতে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ মানুষ বাস করে বলে ২০২২ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত জনশুমারিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক বা সামাজিকবিষয়ক বিভাগের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫ প্রতিবেদনের বরাতে গেল বছর ২৬ নভেম্বর আল জাজিরার লিখেছে, ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৬ লাখ।
ঢাকার জনসংখ্যা যাই হোক, তাদের মশার উপদ্রব থেকে রক্ষার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের।

এ দুটি সংস্থা মশা নিধনে সকালে নালা, ঝিল বা খালে লার্ভিসাইড এবং বিকালে অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করে।
উত্তর সিটিতে মশা নিয়ন্ত্রণে কারিগরি কমিটি, স্পেশাল টাস্কফোর্স কমিটি, ওয়ার্কিং কমিটি, ওয়ার্ড লেভেল কমিটি, এখন আবার নতুন কীটনাশকের গুণাগুণ যাচাইয়ের জন্য কমিটি করেছে।
একইভাবে দক্ষিণ সিটিতেও করা হয়েছে কয়েকটি কমিটি। এমনকি মশার ওষুধ কাজ করছে কি না তা নিয়েও কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করতেন কাউন্সিলর ও মেয়ররা। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর তারা সবাই আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে জবাবদিহিতার জায়গা নেই। নাগরিকদের ভোগান্তির বিষয়েও কারো কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন না নাগরিকরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের দাবি, “মশা বেড়ে গিয়েছিল, আমাদের মনিটরিং টিমটা, আমাদের কর্মকর্তা দিয়ে আমরা ইনশাল্লাহ মোটামুটি এখন ভালো কমাতে পেরেছি।
ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে করা কমিটির প্রতিবেদনে কি পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওষুধের কার্যকারিতা ঠিক আছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় ওষুধ চেক করার সময় দেখেছেন, ওষুধের কার্যকারিতায় সমস্যা নাই।
“সমস্যা হলো ব্যবহার, মানে প্রয়োগের ক্ষেত্রে। কীভাবে আমরা ব্যবহার করছি, ওইটা হল (সমস্যা)। ফগিংটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা একটু মনোযোগ দিচ্ছি, তারা যেন একটা ভালোভাবে ব্যবহার করে। এইজন্য মনিটরিং টিমটা আমরা দিয়েছি। অনেকটাই মশা কমেছে।”
উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলী বলেন, “আমাদের উত্তর এলাকায় বস্তি বেশি, ঝিল বেশি, পুকুর-খাল বেশি, জলাশয়ও বেশি। যার কারণে কচুরিপানাও বেশি।
“এখানে বস্তি অনেক থাকায় টং ঘরে যারা থাকে, সেখানে নিচে সকল ময়লা ফেলে। আমরা হটস্পট গুলো নির্দিষ্ট করে কাজ করছি। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি বিশেষ প্রোগ্রাম করছি।”
তার দাবি, “প্রতি শনিবার আমাদের যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, যে ক্লিনিং প্রোগ্রাম এটা করছি। সব কিছু মিলিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে আছে।”

ওষুধের ‘কার্যকর’, প্রয়োগে ফল ‘মিলছে না’
ঢাকা দক্ষিণ সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মশার লার্ভা ধ্বংস করতে সকালে টেমিফস নামের একটি কীটনাশক ছিটানো হয়, যা ভারত থেকে আনা। আর বিকালে উড়ন্ত মশা মারতে ম্যালাথিয়ন নামের ওষুধ ধোঁয়ার আকারে ছড়ানো হয়, যা চীন থেকে আনা।
স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষাগারে ওষুধের কার্যকারিতা ঠিকমতো পাওয়া গেলেও মাঠে প্রয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে ডোবা, নালা ও জমে থাকা পানিতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু বিকালের ফগিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যেসব মশার গায়ে ধোঁয়া সরাসরি লাগছে, সেগুলো মারা যাচ্ছে; যেগুলোর গায়ে লাগছে না, সেগুলো মরছে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বলেন, “ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদনে ওষুধের কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।”
উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলী বলেন, “ওষুধ ঠিক আছে এবং সকালের লার্ভিসাইড যেটা, খুবই কার্যকর এবং বিকালে যেটা ব্যবহার হয়, সেটাও কার্যকর।”
নজর এখন ডোবা-নালায়
ঢাকা দক্ষিণ সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণের মধ্যে শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও এলাকায় সবচেয়ে বেশি মশার উপদ্রব। কারণ, ওই এলাকাগুলোতে প্রচুর ডোবা, নালা রয়েছে।
জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বলেন, “মশা অনেক কমেছে, কিউলেক্স মশা অনেক কমেছে। আর এই যে ঝড় হল, এতেও অনেক মশা কমেছে। সব কমে যাবে।
“আমরা ডেঙ্গুর উপরে গুরুত্ব দিচ্ছি, ডেঙ্গুর জন্য গত তিনদিন এবং আগামী দুইদিন আমাদের মশক কর্মীদের ট্রেনিং করানো হচ্ছে। একদম হাতে কলমে… আরো কীভাবে পারফেক্ট কাজ করতে পারবে, সেটা নিয়ে ট্রেনিং।”
ওষুধের সংকট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওষুধের কোনো ‘সংকট নাই’। জ্বালানি নিয়ে একটা ভয় ছিল, ইরান যুদ্ধ থেমে যাওয়াতে সেটাও তো মোটামুটি দূর হয়েছে।

ভাবনা এখন ডেঙ্গু নিয়ে
ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্ষা মওসুমে বেশি দেখা গেলেও সারা বছরই মানুষ এইডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়।
এবছর এখনো ডেঙ্গুর তেমন প্রকোপ দেখা যাচ্ছে না। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে চারজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মারা গেছেন একজন। মার্চ মাস ও এপ্রিলের এখন পর্যন্ত মৃত্যুর তথ্য নেই।
শুক্রবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দুই সিটিতে দুজন করে চারজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন চারজনকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ঢাকা উত্তরে ২৪৬ ও ঢাকা দক্ষিণে ৩১৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি আমাদের সামনে আছে। আমরা এখন এর মধ্যে আছি, মশক কর্মীদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দেওয়াচ্ছি, তারা যেন সঠিকভাবে ওষুধটাকে প্রয়োগ করে, সঠিকভাবে যেন এটাকে ফগিং করে। এছাড়া ডোবা-নালার বর্জ্য পরিষ্কার করছি।”
উত্তর সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলী বলেন, “এখন তো ডেঙ্গু নিয়ে আমরা বেশি কাজ করছি, যদিও ঢাকা উত্তরে কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। তবে আমরা এটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
“মওসুম কিন্তু হল ডেঙ্গুর, কিন্তু রোগী হয়তো তেমন হয় নাই। ওই কারণে প্রস্তুতি, উৎস কমানো, তারপর হল বিভিন্ন ক্যাম্পেইন আমরা করছি।”
দুই প্রশাসক যা বলছেন
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “মশা নিধনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা আলাদা আলাদা কমিটি করে দিয়েছি। তদারকি করার জন্য টিম গঠন করে দিয়েছি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করে কাজ করছি।”
আগের তুলনায় মশা অনেক কমে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
“বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার পাওয়া চারটির মধ্যে একটি মশক নিধন কার্যক্রম। আমরা লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করছি।”
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি অগ্রাধিকার দিয়ে। মশক নিধনে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষাও করা হয়েছে।”
তার মতে, “শুধু মশার ওষুধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক সচেতনতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে।”
আগের খবর:
ঢাকা উত্তরে মশা মারতে পুরস্কার ঘোষণা
মশা মারতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মাসব্যাপী কর্মসূচি
মশা মারতে কয়েকটি ওষুধ মিলিয়ে প্রয়োগের পরিকল্পনা ডিএনসিসির