সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড: এখনও জানা যায়নি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অষ্টম ও নবম তলায় ক্ষতি হয়েছে বেশি, সেখানকার অধিকাংশ নথি পুড়ে গেছে।
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ক্ষয়ক্ষতির ধরন জানতে পারেনি এর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর।
কারণ হিসেবে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পুড়ে যাওয়া কক্ষগুলোয় প্রবেশ করতে না পারার কারণে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যায়নি।
অধিদপ্তরের ’ইডেন’ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভবনের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটি এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
“ভবনটি এখনও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আছে। এ কারণে আমরা সেখানে এখনও যেতে পারছি না। তদন্ত কমিটি হয়েছে; শুধু তারাই ঢোকার অনুমতি পাচ্ছেন। তারা সেখানে গেলে বুঝতে পারবেন, কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে।”
তদন্ত কমিটির সদস্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলেন, “বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। বিকালে (বৃহস্পতিবার) আমরা গিয়েছিলাম। অন্ধকার হয়ে গেছে, সে কারণে দেখা সম্ভব হয়নি। আমরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে তা নির্ধারণ করতে পারিনি।”
তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ''প্রায় পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের নথি পুড়ে গেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
“শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপদ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি কার্যক্রম অনলাইনে থাকার কারণে আমরা উদ্ধার করতে পারব। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুরোটাই অ্যানালগভাবে ফাইল হয়।
“তাই যে শাখাগুলোর নথিগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো কতটা রিকভার করা যাবে তা নিরূপণ করার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটা কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি কাজ করে প্রতিবেদন দিলে আমরা বুঝতে পারব, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোনটা পুনরুদ্ধার সম্ভব, কোনটা সম্ভব নয়।”
বুধবার গভীর রাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় ১০ ঘণ্টা পর সেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
দশ তলা ওই ভবনেই অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দপ্তর রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অষ্টম ও নবম তলায় ক্ষতি হয়েছে বেশি, সেখানকার অধিকাংশ নথি পুড়ে গেছে।
