Published : 17 Mar 2026, 11:22 PM
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় যাদের আবাস, সেই পথশিশুদের সঙ্গে দারুণ সখ্যতা ছিল রাকিবের। অবহেলিত শিশুদের টানে রোজ তিনি সেখানে ছুটে যেতেন, করতেন আবদার পূরণ। সেখানেই গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থীকে।
রোববার রাতে শহীদ মিনারে হত্যা করা হয় ২৫ বছর বয়সি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে। এ ঘটনায় তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন সোমবার মামলা দায়ের করেন।
সেদিনই মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা তা গ্রহণ করেন। আগামী ১০ মে এর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে শাহবাগ থানা পুলিশ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।
স্ত্রী, এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে খোকনের পরিবার। থাকেন নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
যোগাযোগ করা হলে খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ছিলাম। ফোনে কল আসে। একজন জানায়, রাকিবকে কারা যেন গুলি করেছে। সেখানে যান।
“কারা, কেন আমার ছেলেটাকে খুন করেছে আল্লাহ জানে! শহীদ মিনারে রাত ৭/৮ টার দিকে কীভাবে গুলি করে মানুষ মারে?”
তিনি বলেন, “রাকিব আমার একমাত্র ছেলে। কোনো ব্যাড রেকর্ড নাই। শহীদ মিনার ওর পছন্দের জায়গা। ওইখানে অনেক শিশুরা থাকে। সেখানে গিয়ে প্রতিদিন ওদের সাথে খেলাধুলা করতো। পিচ্চিটা ওকে দেখলেই ঘিরে ধরতো। বলতো, ‘রাকিব ভাই এইটা খাব, ওইটা খাব; মোটরসাইকেলে ঘুরব’। ও ওদের আবদার পূরণ করতো।
“প্রায় প্রতিদিনই দুই ঘণ্টা ওইখানে সময় কাটাতো। পরিবারকে সময় না দিলেও অন্যদের উপকারে ব্যস্ত থাকতো। কেউ যদি ফোন দিতো ব্লাড লাগবে, কেমনে যেন ম্যানেজ করতো। কাউকে হাসপাতালে নেয়ার কথা শুনলে দৌড়ে যেত। আমার সেই ছেলেটাকে খুন করল।”
আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে খোকন বলেন, “ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। তাকে যারা খুন করেছে, তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।
“খুনি এখনো ধরা পড়েনি; পুলিশ কী করতেছে? আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।”
খোকনের স্ত্রী শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখায় চাকরি করেন। আর মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কর্মরত আছেন।
রাকিবও শিগগিরই চাকরি শুরু করতেন জানিয়ে তার বাবা বলেন, “ঈদের পরই বোরহানুদ্দীন কলেজে ওর জব হয়ে যেত। তার আগেই ছেলেটাকে মেরে ফেলল।
“ছেলেটাকে হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। ছেলেকে তো আর পাব না। তবে হত্যাকারীদের যেন বিচারে কঠোর সাজা হয়।”
হত্যার কারণ কী, এমন প্রশ্নের উত্তরে খোকন বলেন, “কোনো একটা মেয়ের হাজবেন্ড নাকি এসে থ্রেট দিয়েছিল। এরপরই তো খুন হলো। এর বেশি কিছু জানি না।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মিঠু ফকির বলেন, “মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ধরতে পারিনি।
“খুনের কারণও জানতে পারিনি। আসামি গ্রেপ্তার হলে খুনের কারণ জানা যাবে।”
খোকন মামলায় অভিযোগ করেন, রাকিব মোটরসাইকেলে করে রোববার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। মোটরসাইকেল পার্কিং করা মাত্রই রাকিবকে গুলি করে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অচেনা ব্যক্তি। রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পরে গেলে অচেনা ৫/৬ জন তাকে ছুরি দিয়ে কোপায়। মৃত ভেবে তারা চলে যায়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেয়। সেখানকার চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করে।