Published : 07 Apr 2026, 02:19 PM
জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন মঙ্গলবার এ আবেদন করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে এদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আদালতে আনা হয়। শুনানির সময় এজলাসে তোলার জন্য তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানিয়েছেন, ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে পুলিশের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে।
আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘কুশীলব’ ছিলেন।
“তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে সশস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।”
তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় ওই আবেদনে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।