Published : 14 Jan 2026, 03:11 PM
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী এবং বাংলা ইনসাইডার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীরের বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল করে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল মিয়া জানান, যে ধারায় এ মামলা করা হয়েছিল, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সেই ধারাগুলো অন্তর্বতীকালীন সরকার বাতিল করেছে।
“এজন্য আদালত আজ তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা বাতিল করে তাদের অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন।"
ময়নাল হোসেন চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী এনামুল হকও একই কারণ দেখিয়ে মামলা বাতিলের আবেদন করেছিলেন।
২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নঈম নিজামসহ সাত জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছিলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।
সে সময় তার আর্জি শুনে সিআইডি পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তিন জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের এসআই তরিকুল ইসলাম।
গত বছর ২ জুন সেই প্রতিবেদন আমলে নেয় আদালত। আসামিদের ২৭ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করা হয়।
কিন্তু তারা আদালতে না যাওয়ায় বাদীপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলায় ২৭ পৃষ্ঠার আরজিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘নুসরাতকে দিয়ে বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের ফের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত করা হয়। তা অনলাইনেও দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, “নুসরাতের আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে ব্যারিস্টার এম সারোয়ারের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ও অপপ্রচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। মুনিয়া ইস্যু নিয়ে তারা এর আগেও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলেন।”
মামলায় সারোয়ার বলেছেন, তিনি নুসরাতের আইনজীবী নন। নুসরাতের মামলার নারাজি আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।
২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলা ইনসাইডারে ‘কে এই সারোয়ার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথাও মামলায় বলা হয়।
পাশাপাশি সারোয়ার বলেন, ফেইসবুক পেইজ ভাইরাল প্রতিদিনে তাকে নিয়ে ‘উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে’ লেখা হয়েছে সে সময়।