Published : 24 Jun 2026, 06:45 PM
স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত বুধবার আলভীর দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক রোববার তার রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ড শুনানির দিন রেখেছিলেন বুধবার।
এদিন শুনানির জন্য কারাগার থেকে আলভীকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ডের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি শোনার পর বিচারক আদেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে হারুন অর রশীদ বলেন, “২০১৩ সালে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ইকরাকে নির্যাতন করে আসছিলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পরনারীকে নিয়ে ফেইসবুক পোস্ট করে ইকরাকে উস্কানি দেওয়া হয়।
“দুই বছর আগে থেকে ইকরা জানতে পারে আলভী পরকীয়ায় লিপ্ত। আলভী তাকে গালিগালাজ করেন, উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরনারীর সঙ্গে ছবি জুড়ে ফেইসবুকে দেন। ওই পোস্ট সহ্য করতে না পেরে ইকরা আত্মহত্যা করেন।
ছোট পর্দার অভিনেত্রী তিথির হাতে মেহেদির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “কাছের মানুষের অবজ্ঞা, অবহেলা কারণে ইকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিথির হাতে মেহেদি দিয়ে আলভী লেখা। আলভী পরকীয়া প্রেমিকা তিথিকে নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে। এটা কোনো স্ত্রী মেনে নিতে পারে না।”
শুনানিতে আলভীর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আলভী দেশে ছিলেন না। তিনি বিদেশে ছিলেন। তাকে নিয়ে এমন কিছু বলেনি যে ঝুলে (আত্মহত্যা) পড়তে হবে। একটা বাচ্চাও এভাবে ঝুলে পড়বে না। আসামি একজন নাট্য অভিনেতা। হাজার নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করতে পারেন। এটা মেনেই কিন্তু ইকরা আসামির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।”
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আলভী বলেন, “প্রেম করে বিয়ে করেছি। প্রত্যেকের সংসারের মত আমাদের খুনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ভালোবাসা ছিল। ঝগড়া-বিবাদও ছিল। আমাদের রিলেশনশিপ স্মুথ ছিল। সুইসাইড করার মত এমন ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না, যে সেটা কন্ট্রোল করব।”
ইকরার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছাড়ানো হয়েছে অভিযোগ করে আলভী বলেন, “তিথির হাতে মেহেদী দেওয়া ছবিতে আলভী লেখা এআই জেনারেটেড। এখনো সেই ছবি আছে। আসল ছবিতে আলভী লেখা নেই। ফেইক ছকি এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
আদালতে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন আলভী।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় সেদিন রাতেই মামলা করেন তার বাবা কবির হায়াত খান।
দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
এ মামলায় গত ৪ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন যাহের আলভী। তবে আদালত সেদিন জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।