১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বীরাঙ্গনার টাকা আত্মসাতে কারাদণ্ড, ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিককে হেনস্তা

টাকা ফেরত দিতে রাজি না হওয়ায় ২০২৩ সালের মার্চে আদালতে মামলা করেন তার মেয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Mar 2026, 07:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:06 PM

প্রতারণার মাধ্যমে নরসিংদীর একজন বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধার ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জাতীয় সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাসচিব এ বি এম গোলাম কাদির ওরফে জি কে বাবুলকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আলাদা দুটি ধারায় তাকে দুই বছর এক মাসের সাজার রায় দেওয়ার পাশাপাশি ৪ হাজার টাকা দণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ রায় দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন বলেন, আসামিকে প্রতারণার দায়ে এক বছর এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২ হাজার টাকা দণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আর বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে  জি কে বাবুলকে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ হাজার টাকা দণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড দিতে না পারলে আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে তাকে। তাকে এই সাজা আলাদাভাবে খাটতে হবে।

রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে আসামির ছবি তুলতে যান এই প্রতিবেদক। এ সময় জি কে বাবুলের ছেলে সালেহীন কাদির নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। হাতকড়া হাতে আসামিও তেড়ে আসেন।

ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে আসার পর আরও কয়েকজন সাংবাদিক জি কে বাবুলের ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে যান। এসময় সালেহীন কাদির তাদের উপরও চড়াও হন। কয়েকজনকে হেনস্তা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদপুরের বীরাঙ্গনা জাহেরা খাতুন ও তার মেয়ে জুমি আক্তারের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে আসামি তাদের ঢাকার উত্তরায় সরকারি আবাসিক প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। 

২০২২ সালের মার্চে ঋণ নিয়ে ৫ লাখ টাকা ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তার কার্যালয়ে এসে হস্তান্তর করেন মা-মেয়ে। টাকা পাওয়ার পর আসামি মুক্তিযোদ্ধা স্বনির্ভর পরিকল্পনা সংক্রান্ত ফরম নিজ হাতে পূরণ করেন। 

অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও জাহেরা খাতুন ফ্ল্যাট বরাদ্দ না পাওয়ায় জি কে বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন।

প্রায় এক বছর পর আবার যোগাযোগ করলে আসামির কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাননি। এদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে প্রতি মাসে ভাতার অর্ধেকের বেশি টাকা কেটে নেওয়া হয়। 

পরে জাহেরা খাতুন জানতে পারেন জি কে বাবুল জাতীয় সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি টাকা ফেরত চাইলে আসামি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেতে আরও ১ লাখ টাকা দিতে বলেন। 

তবে এই বীরাঙ্গনা বাড়তি টাকা দিতে রাজি হননি এবং আগের ৫ লাখ টাকা ফেরত চান।

আসামি টাকা ফেরত দেবেন না জানালে জাহেরা খাতুনের মেয়ে জুমি আক্তার ২০২৩ সালে ২ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। 

বিচার চলাকালে আদালত চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এদিন সাজার রায় দিল।