২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

মানুষের কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে নকলে এআই এর সক্ষমতা, ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেও মনে করছেন মো. আসাদুজ্জামান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 06:46 PM

Updated : 29 Oct 2026, 06:46 PM

বিচারপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, “এআই ব্যবহার করে বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা কিংবা সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে নকল করার সক্ষমতাও ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার সহজলভ্য করতে হবে। ই-বেইল বন্ড চালুর সুফল মানুষ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার ব্যবস্থা চালু করা গেলে সময়, অর্থ ও ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

“ই-জুডিশিয়ারি কার্যকর করতে হলে বিচারিক কার্যক্রমের সব পর্যায়কে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বিচারকদেরও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।”

বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচার বিভাগের সামনে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে এআই। এআই ব্যবহার করে রায় লেখা কিংবা সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এআই মানুষের কণ্ঠস্বরও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নকল করতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচারকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও দক্ষ হতে হবে।

“বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিচারকরা যেন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

নতুন প্রজন্মের বিচারকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিচারব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখের বেশি তথ্য দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রায় ২৩০০ বিচারকের পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। এতে বিচারকদের ওপর অমানবিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত মহানগরগুলোতে মামলার চাপ আরও বেশি।

“যেসব আদালতে মামলার চাপ বেশি, সেখানে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্ষম ও সক্রিয় বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু চাকরি করার মানসিকতা নয়, বিচারিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মানসিকতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ আদালতগুলোতে পদায়ন করা হবে।”

কিছু বিচারিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, “কোনো কোনো কর্মকর্তা সকাল ১১টার দিকে কাজে এসে দুপুর ২টা বা ৩টার মধ্যে চলে যান এমন প্রতিবেদন আমাদের কাছে আছে। এ ধরনের আয়েশী কর্মপদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, সিএমএম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, মহানহর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।