Published : 18 Jan 2026, 01:45 PM
দুর্নীতির মামলায় জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা এবং চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম এ তথ্য জানান।
ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
আবেদনে বলা হয়, “অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে সঙ্গতিবিহীন ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ২৪৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এবং বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৪টি হিসাবে মোট ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তরের ও রুপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচারও করেছেন তিনি।”
এ জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ইনামের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তকালে ইনাম অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দুদক জেনেছে।
আসামি বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইনাম আহমেদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক।
আর হাসান মাহমুদ রাজাসহ তিন জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
আবেদনে বলা হয়, রাজাসহ অন্যান্য ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. কে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানে এসেছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং আবুল কালাম আজাদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছে দুদক।