Published : 10 Dec 2025, 12:25 PM
বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ ও পরামর্শ দেওয়া এবং জনসচেতনতামূলক সেমিনার সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখে পুলিশ কমিশন গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় এই গেজেট প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। যেখানে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের বাকি ৪ সদস্যের মধ্যে দুজন সাবেক আমলা, একজন অধ্যাপক ও মানবাধিকার রক্ষায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশনে অন্তত দুজন নারী সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন পায় গত ৪ ডিসেম্বর।এর আগে গত ২৯ নভেম্বর ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ’ ফেরত পাঠায় উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ এসেছিল উপদেষ্টা পরিষদেরর পক্ষ থেকে।
উপদেষ্টা পরিষদে ওঠার আগেই অধ্যাদেশটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বিএনপি।
২৮ নভেম্বর বিএনপির এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, “বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়া করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাস করাতে চাইছেন। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন।
“আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না।
“আমরা মনে করি, এই আইন দুইটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে।”
গণঅভ্যুত্ত্থানে গেল বছর ৫ অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়, সেখানে পুলিশ সংস্কারের বিষয়টিও ছিল। আর পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ছিল ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের বিষয়টি।

সুপারিশে সীমাবদ্ধ কমিশন
কমিশন কি কি বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবে তার এক দীর্ঘ তালিকা রয়েছে অধ্যাদেশে। আইজিপি নিয়োগ থেকে শুরু করে পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনতে, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এই কমিশন সুপারিশ করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইজিপি নিয়োগের জন্য যথাযথ যোগ্যতা সম্পন্ন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তার একটি প্যানেল সরকারের কাছে সুপারিশ করবে এই কমিশন।
পুলিশের বিরুদ্ধে নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি এবং পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসনেও কাজ করবে ও সুপারিশ দেবে এই কমিশন।
অধ্যাদেশে পৃথক নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। গণমাধ্যম বা অন্য কোন মাধ্যম থেকে তথ্য পেয়ে স্বতপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে এই দুটো কমিটি।
কমিশনে আইন, অপরাধবিজ্ঞান ও পুলিশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগও রাখা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।