Published : 10 Jun 2026, 10:06 PM
ভোটের দায়িত্ব পালনকালে হতাহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নীতিমালা হালনাগাদ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এবারের নীতিমালা থেকে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ বাদ দিয়ে ‘অসুস্থতার’ বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন এ নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত।
এসব নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা পেয়ে থাকেন।
বুধবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এ সংক্রান্ত নীতিমালা নির্বাচন কমিশন সোমবার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে এই হালনাগাদ নীতিমালা কার্যকর হবে। গেল ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন হয়; সামনে স্থানীয় সরকারের ভোট রয়েছে।
এ পর্যন্ত ১৬ জনের পক্ষে অনুদানের আবেদন জমা পড়েছে জানিয়ে ইসির এ উপ সচিব বলেন, নীতিমালার আলোকে গঠিত কমিটি এগুলো যাচাই করছে। যাচাই শেষে ইসির অনুমোদনের পর সহায়তা দেওয়া হবে।
২০১৩ সালে তৎকালীন ইসি যে নীতিমালা করে, তাতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ছিল। পরে সহায়তার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা করা হয়।
এবার কয়েকটি বিষয় হালনাগাদ করে নীতিমালা জারি করা হয়।
রাশেদুল ইসলাম বলেন, “সবশেষ ২০২২ সালের নীতিমালায় অনুদানের পরিমাণ যা ছিল, তা বহাল রয়েছে। তবে কোভিড মহামারীর সময় যে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ ক্যাটাগরি ছিল, তা এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার দায়িত্বপালনকালে ‘অসুস্থতা’ ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে।”
নীতিমালা অনুযায়ী, আর্থিক সহায়তার জন্য দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটিও করা হয়েছে। এতে সভাপতি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১ উইংয়ের যুগ্মসচিবকে। বাজেট ও অর্থ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিবকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।
নিহত, আহত, অসুস্থতায় কত অনুদান
নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের হামলা বা দুর্ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হলে তার পরিবার সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবে।
গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা; গুরুতর আহত হয়ে সাময়িকভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
দায়িত্ব পালনকালে আকস্মিকভাবে অসুস্থ বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাময়িকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ‘ব্যয়বহুল’ চিকিৎসা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং ‘সাধারণ’ চিকিৎসা নিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে।