Published : 17 Apr 2026, 09:41 PM
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহ সহযোগী ফাতেমা বেগমের অসুস্থ ভাতিজিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
ফাতেমা বেগমের ভাইয়ের মেয়ে সীমা (৩২) বৃহস্পতিবার বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন। এরপর থেকে মা ও শিশু দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
শুক্রবার তাদের ঢাকায় এনে নবজাতককে শিশু হাসপাতালে ও মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে সীমার খোঁজখবর নিতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, উপ-পরিচালক আশরাফুল আলমসহ অন্য কর্মকর্তারাও ছিলেন।
সীমা ছাড়াও ঢাকা মেডিকেলে বিএনপির এক কর্মীসহ আরও কয়েকজন রোগীকে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। এরপর হাসপাতালের কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শন করেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জরুরি বিভাগের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) খবর পেয়েছি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রসবের পর মায়ের অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে যায়। পরে আমাদের বিষয়টি জানালে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
“বাচ্চাটিকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর মায়ের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “মায়ের অবস্থা (সীমা) ওখানে (বরিশালে) ‘আনম্যানেজেবল’ হয়ে যায়। তার ব্লিডিং হয়েছে, হাইপ্রেশারসহ কিছু জটিলতা ছিল। এখন মোটামুটি আছে তবে বিপদমুক্ত নন। আর বেবির ওজন হয়েছে ১.৭ কেজি, তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। পরে আমরা ‘বেটার ম্যানেজমেন্টের’ জন্য তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসি।
“কাজেই যেহেতু তাদের আমরা আনছি, তাদের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটা দেখার জন্য আসছি। ‘দিস ইজ অ্যান এক্সামপল অব সুপারভিশন’। এই উছিলায় আমার এলাকার আরও দুইটি রোগী ছিল, একজন ছাত্রদল সভাপতি- তাদেরও দেখে আসলাম।”
মন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক মেডিকেলের পরিচালকদের আগে থেকেই বলা আছে, যেকোনো রোগী ক্রিটিক্যাল হইলে আমাদের জানাতে। যেন সেই রোগীর ঢাকায় এনে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি।
“সেটার অংশ হিসেবেইে এই রোগীকে এখানে আনা হয়েছে। একটা রোগীর জন্য কিছু করতে পারলেও মানুষ বলবে ‘উই আর ডুয়িং সামথিং’।”