‘মামলা কেন নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তো আমার’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব সালমানের
“আপনি কি বুঝতে পারতেছেন যে আপনাকে কেন আঙ্গুল তোলা হইছে? বুঝেন নাই মনে হয়।”
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংবাদ সম্মেলনের পর একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির, সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মামলা না করা’ ও ‘টুকটাক ভাঙচুর’ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, “আপনার মধ্যে কি একটু লজ্জা কাজ করে? আপনার প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে এরকম একটা কিছু হইল, আপনি কি বুঝতেসেন যে কতটুকু ডাউন হয়ে গেল যে বিএনপি সরকারের চোখের সামনে তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসনে এই ঘটনা ঘটছে… বুঝতেসেন জিনিসটা কত ইয়ে?
“পাঁচ মিনিট হাঁটার সামনে ক্যান্টনমেন্ট। আপনি কি বুঝতে পারতেছেন যে আপনাকে কেন আঙ্গুল তোলা হইছে? বুঝেন নাই মনে হয়।”
ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সালমানের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও ছাড়াও ওই আবাসন প্রকল্পের অফিস ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা হয়।
পুলিশ বলছে, জমি নিয়ে একজন আবাসন নির্মাতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।
৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং গুলির খোসাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
ওই ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির বলেছিলেন, “এটা ভাঙচুর না, এটা হচ্ছে পুরোপুরি রবারি, চাঁদাবাজি, ডেস্ট্রাকশন, বাংলাদেশের কমন… তো বেকারত্ব যখন আপনি দূর করতে পারবেন না, যখন আপনার ল অ্যান্ড অর্ডারস থাকবে না, এটাই এন্ড রেজাল্ট। লাকিলি আমার পক্ষে এটা কোপ-আপ করা সম্ভব।
“…আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, উনি অবশ্যই এগুলো ভিডিও হয়তো দেখেন। উনাকে যদি কিছু বলা হয়, আমি জানি না উনি কতদূর স্বীকার করেন নাকি। বাট উনার প্রতি আমার আসলে কোনো রাগ নাই, কোনো কমপ্লেইন নাই, কোনো চাহিদা নাই।
“…বিএনপির একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বা দেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনার যা করার কথা, উনি ভালো করেই জানেন। আর উনি কতদূর করছেন সেটাও অবশ্যই আমরা দেখতে পারি সবাই, এটা তো আমি বলার কেউ না। আপনারা আছেন, দেশবাসী আছে, তারাই কমেন্টে বলে দিতে পারবে যে উনি কত ভালো কাজ করছেন। আর আমার মুখ থেকে আসলে বলার মতো আর কিছু নাই।”
এরপর রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, "যে ভদ্রলোক ফেইসবুকে লাইভে এসে অভিযোগটি করছেন, তিনি কি কোনো মামলা দায়ের করেছেন? করেননি। এই লাইভ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।”
সালমান ঢালাওভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন বলেও মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
পরে ভিডিও বার্তায় এর জবাব দিতে গিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
তার ভাষায়, একজন নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের; তাই ঘটনার কারণ বা জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা না করে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।
“আমরা এখানে ইনভেস্টিগেশনের জন্য আপনার কাছে আসিনি, আমরা আসছি অ্যাকশনের জন্য।”
সালমান বলেন, হামলার পর রাতেই তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় যান এবং পরদিন ভোর পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। তার দাবি, ওই সময়ও মামলা নেওয়া হয়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আসে।
“এর আগ পর্যন্ত মামলা আসলে কেন দায়ের করা হয় নাই এই প্রশ্নটা আপনার কাছে থাকার কথা আমার, দেশবাসীরও। আপনারই অ্যান্সার করতে হবে কেন সালাউদ্দিন আহমেদের আন্ডারে মামলা দায়ের করা হয় নাই? কারণ আমি তো রাত্রে বেলা গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দায়ের করে ফেলছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘টুকটাক ভাঙচুর’ মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, "আপনি এরকম একটা কেইসকে এত সিমপ্লিফায়েড করে বললেন একটু টুকটাক ভাঙচুর! আপনার মধ্যে কি কোনো এম্প্যাথি আছে?"
হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে সার্ভার পর্যন্ত নিয়ে গেছে বলে ভিডিওবার্তায় জানান সালমান মুক্তাদির।
বিএনপির নাম জড়ানো প্রসঙ্গে তিনি, ধরা পড়া হামলাকারীরাই বিএনপির নাম বলেছে।
"তারা স্বীকার করতেসে মানুষের কাছ থেকে মাইর খাওয়ার পর, মানুষের মুখে শুনতেসি তারা বিএনপির নাম নিয়ে নিসে"।
হামলার স্থানটি ঢাকা-১৭ আসনে এবং এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন, সে বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে সালমান সাবরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, "উনার আসনে বাংলাদেশের ওয়ান অফ দা মোস্ট প্রমিনেন্ট একটা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, যার এত ফলোয়ার্স... এক রাতে এত বড় ভাবে প্রচার হইলো... আপনি কি নিজে কোনভাবে কনফিডেন্ট ফিল করেন?"
বিএনপিকে নিয়ে কেন কোনো কথা বলা যাবে, না ‘আঙুল তোলা’ যাবে না, সেই প্রশ্ন সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে রাখেন সালমান মুক্তাদির।
তিনি বলেন, “আপনি কি বিএনপির পিআর ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিসের দায়িত্ব নিয়েছেন নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিছেন এখানে আমি খুবই কনফিউজড।
“বিকজ দা প্রবলেম ওয়াজ দা সেইফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি, রিগার্ডলেস এখানে কি ভূমি দখল ছিল? চাঁদাবাজি ছিল? বিএনপির লোক ছিল? আওয়ামী লীগের লোক ছিল? ওই দখল যে করসে তার লোক ছিল? যাকে দখল করা হচ্ছে তার লোক ছিল? আই এম নট সাপোসড টু টেক কেয়ার অফ দিস, নো বডি ইস সাপোসড টু টেক কেয়ার অফ দিস।”
সালমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার ক্ষতি হলেও তিনি আবার কাজ শুরু করতে পারবেন। কিন্তু এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটিই তার কাছে বড় বিষয়।
তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চান না। তার ভাষায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন যোগাযোগ করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি, কারণ তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে চান না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, “আমি জানি না আপনি নিজেকে কতটুকু যোগ্য মনে করেন কিংবা কতটুকু মনে করছেন যে আপনি এটাকে মানে ট্যাকেল দিতে পারবেন। আই আন্ডারস্ট্যান্ড ইনভেস্টিগেশন হবে, তদন্ত হবে, আপনারা ডেফিনিটলি দেখতেসেন, ১০০% এটাকে সিরিয়াসলি নেওয়া হবে, এগুলা আমি অনেক আগে থেকে করে আসছি।
“আওয়ামী লীগের আমল থেকে রেপ নিয়ে কথা বলছি, মার্ডার নিয়ে কথা বলছি, চাঁদাবাজি নিয়ে কথা বলছি। ইন্টেরিম গভর্মেন্টের আন্ডারে তাদের এগেইনস্টে কথা বলছি। আপনাদের গভর্মেন্ট যখন পাওয়ারে আছে, আপনাদের এগেইনস্টেই কথা বলব, বিকজ ইউ আর ইন পাওয়ার, ইউ প্রমিসড আস দা সেইফটি। এই লজিকটা আই থিংক আপনারা বুঝতে পারতেসেন না।”
