Published : 16 Jun 2026, 12:05 AM
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন ‘সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড’ থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
এ নিয়ে গত তিন দিনে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ১৪৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
সোমবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে ব্র্যাকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন সোমবার ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলাও করেছেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলেছে, আগের দুদিনের মতো সোমবার ফেরত আসা সবাইকেও বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সঙ্গে মিলে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।
তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালচক্রের মাধ্যমে তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সাইবার স্কাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “শারীরিক নির্যাতন করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে তাদের বাধ্য করা হত। কাজ করতে না চাইলে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে ইলেক্ট্রনিক শক দেওয়া হত। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্ক্যাম সেন্টারবিরোধী অভিযান চালালে ‘চাইনিজরা’ পালিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “সেদেশে থাকা বাংলাদেশি দালাল আব্দুল আল মামুন অপু সেখানে বিয়ে করে দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়াতে থাকেন। কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে তিনি একাই কয়েক হাজার বাংলাদেশিকে স্কাম সেন্টারে বিক্রি করেছেন।”
ভুক্তভোগীরা বলেন, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হত। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হত।
এর আগে গত শুক্রবার কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন, শনিবার ৫৪ জন ভুক্তভোগী দেশে ফেরত আসেন।
একইভাবে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আট জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “তিন দিনে ১৪৩ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার। মঙ্গলবারও আরেকদলের আসার কথা রয়েছে।”
শরিফুল হাসান বলেন, “যেহেতু মামলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা। বিশেষ করে কোন প্রক্রিয়ায় তাদের কম্বোডিয়া পাঠানো হল, সেই চক্রকে চিহ্নিত করা জরুরি।”