বিচারপতি নিয়োগ আইন চলতি সংসদেই: আইনমন্ত্রী

২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ১ হাজার ৪২৬ জন বিচারক (সহকারী জজ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2024, 02:13 PM
Updated : 22 Feb 2024, 02:13 PM

হাই কোর্ট বিভাগে বিচারপতি বাড়াতে চলতি সংসদেই আইন করতে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, “বিচারপতি নিয়োগের জন্য সংবিধানে একটি আইন করার কথা বলা আছে। চলতি সংসদে বিচারপতি নিয়োগের জন্য আইন আনা হবে।

“আপিল বিভাগে ৭ জন বিচারপতি থাকতে হবে, সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই। আগে ১১ জন বিচারপতিও ছিলেন। খুব শিগগির আপিল বিভাগে বিচারপতি নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন।”

একইভাবে হাই কোর্ট বিভাগে বিচারপতি বাড়ানোর বিষয়েও রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকের নতুন পদ সৃজনে বর্তমান সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের কারণেই অধস্তন আদালতে বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৫৯টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। আদালতসমূহ যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য ১৯৯৯টি সহায়ক পদ সৃজন করা হয়েছে। অপরদিকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে চারদলীয় বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে মাত্র ২৫টি বিচারকের পদ এবং ১৩৩টি সহায়ক জনবলের পদ সৃজন করা হয়।

“২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ১ হাজার ৪২৬ জন বিচারক (সহকারী জজ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে অধস্তন আদালতে মাত্র ১৯০ জন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল।

“এছাড়াও ১৬শ বিজেএসের মাধ্যমে একশত চারজন বিচারক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সুপারিশ করেছে। আরও ১০০ জন বিচারক নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।”

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “ভাড়াটিয়াদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে সংঘাত নিরসনের জন্য ‘বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১’ বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে। এ অবস্থায় বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তবে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের বিধানসমূহ পর্যালোচনা করা হবে।”

ভোলা-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ১৯৯৬ সালে আইন কমিশন গঠিত হওয়ার পরে প্রতি বছর বিভিন্ন আইন ও বিধি প্রণয়নের জন্য সরকারকে এ পর্যন্ত কমিশনের সুপারিশ সংবলিত ১৬৭টি সুপারিশ (সংশোধনীসহ খসড়া, আইন, বিলের খসড়া, বিশেষ প্রতিবেদন, আইনগত মতামত) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সুপারিশ ইতিমধ্যে পূর্ণভাবে/আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, গত ৫ বছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ হাজার ২৬৪ জন নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম থেকে ১ হাজার ৩৪১ জন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢাকায় ১২৩৫, সর্বনিম্ন বান্দরবান থেকে ৩৪ জন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রীর জেলা মেহেরপুর থেকে ৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির প্রশ্নে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মহাখালী থেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ১৫টি মারাত্মক সংক্রামক রোগের ১৭ ধরনের টিকা উৎপাদন করা হয়।

এসব টিকা প্রান্তিক খামারিদের সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে। সরকার টিকার সহজলভ্যতা অর্জনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৮৬ লাখ ৭৪ হাজার ডোজ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন করে বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে বিতরণ করেছে।

বাগেরহাট-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ এইচ এম বদিউজ্জামানের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৪১৮ জন।  এর মধ্যে ১৪ লাখ ২০ আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।