Published : 18 Jun 2025, 04:38 PM
সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে বুধবারও সচিবালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কর্মচারীরা।
এদিন সকাল সোয়া ১১টার পর তারা সচিবালয়ের বাদামতলায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সচিবালয়ের বিভিন্ন অলিগলি প্রদক্ষিণ করেন।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগওয়ারি মিছিল নিয়ে বাদামতলায় জড়ো হওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিতি আগের দিনের মতোই কম ছিল।
কর্মচারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘মানি না মানব না, ফ্যাসিবাদী কালো আইন’, ‘মানি না মানব না, অবৈধ কালো আইন’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ শেষে ৬ নম্বর ভবনের লিফটের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যেকটা মানুষ সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল চায়। ফলে কোনো সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন আমরা মানব না।

“এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ডাক পাইনি। যদিও পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দিতে।”
নূরুল ইসলাম বলেন, “কর্মচারীদের দাবি সম্বলিত পোস্টার যারা ছিড়েছে, সিসিটিভির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আমরা তাদের পরিচয় প্রকাশ করব। যার যার জায়গা থেকে পোস্টার ব্যানার লিফলেট তৈরি করে পুরো সচিবালয়ে সাঁটিয়ে দিতে হবে।”
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে নূরুল বলেন, “আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আগামী রোববার আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
গত ২৫ মে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। কিন্তু এই আইনকে নিবর্তনমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে তখন থেকে টানা বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। আইন বাতিল না হলে এই বিক্ষোভ সারাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তারা হুমকি দেন।
এই পরিস্থিতিতে গত ৪ জুন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি কমিটি করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যেই এক দফা সভা করেছে।