Published : 21 Jul 2025, 03:47 PM
ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই দগ্ধ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বেলা সাড়ে ৩টায় বলেন, “এখন পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক এসেছে। আমরা খুব ব্যস্ত আছি।
“আহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।"
দগ্ধ ও আহতদের একটি অংশকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ওই হাসপাতালের প্রশাসন শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ১৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের দুইজন শিক্ষক ও বাকিরা শিক্ষার্থী।
“যাদের কম বার্ন, তাদের আমরা এখানে চিকিৎসা দিচ্ছি। কয়েকজন অবজার্ভেশনে আছে। যাদের ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে, তাদের বার্ন ইউনিটে রেফার করা হচ্ছে।”
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও আহতদের নেওয়া হয়েছে।
আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজিআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, “আমাদের কর্মীরা একজনের লাশ উদ্ধার করেছে। বিমান বাহিনীর লোকজন আহত অনেককে সরিয়ে নিয়ে গেছে।”
নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আইএসপিআর।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিমানটি একটি ভবনের গেইটে আছড়ে পড়ে। সেটি অ্যাকাডেমিক ভবন। সেখানে স্কুলের বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। একের পর এক আহতদের বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে।”
দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেককে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যোগ দিয়েছে ২ প্লাটুন বিজিবি।