Published : 07 Apr 2026, 08:42 PM
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘দলীয়’ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিধারী অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নিয়োগ পান।
“অন্যদিকে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সোয়েটার ফ্যাক্টরির এমডি।”
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ‘দলীয়’ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের পদ থেকে আহসান মনসুরকে সরিয়ে দেয় বিএনপি সরকার।
উত্তাপ ছড়ানো পরিস্থিতির মধ্যে সেদিন অর্থ মন্ত্রণালয় তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন গভর্নর হিসেবে পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়। তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।
গেল ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান পদে রদবদল এসেছে। নতুন উপাচার্যদের কেউ কেউ বিএনপির দলীয় কিংবা দল সমর্থিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার খবরও আসে।
এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জাতীয় সংসদে মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি, দলীয় নিয়োগ, গণতন্ত্র, গণভোট ও জুলাই আন্দোলন নিয়েও সরব ছিলেন কয়েকজন সংসদ সদস্য।
রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, “সরকারি দল, বিরোধী দল, ২৪-এর অভ্যুত্থানের আগে-পরে সব সময় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হোক। বিএনপি তার ভিশন ২০৩০ ও ৩১ দফাতেও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছে।
“প্রত্যাশা ছিল, এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে বক্তব্য দিতে পারবেন। কিন্তু তা হয়নি। আমরা যদি এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দিতে না পারি, তাহলে আর কোন ভারসাম্যের কথা বলছি?”
সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে দলটিকে ধন্যবাদ জানান এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, “মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কত লাখ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। দলীয় গণ্ডির মধ্যে নির্বাচন করলে এই সমর্থন বোঝার সুযোগ হতো না।”
জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রুমিন বলেন, “এই আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন নারীরা। একঝাঁক নতুন প্রজন্মের তরুণ মুখ আমরা পেয়েছিলাম। সেই নারীরা এক বছর পার না হতেই হারিয়ে গেল কেন?
“মিছিলের সামনের সারিতে নারীর প্রয়োজন হয়। টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের সামনে নারী ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। অস্থির সময়ে নারীর সাহায্য ছাড়া পার হওয়া যায় না। আর সব কিছু যখন ঠিক হয়, তখন নারী হয়ে যায় ট্রলের বস্তু।”
কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি, বৈদেশিক ঋণ, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা।
চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মূল্যস্ফীতিকে বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরে বলেন, অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর প্রভাব এখন অর্থনীতিতে পড়ছে। এ কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ সব পক্ষের আস্থার প্রতীক হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়ও সংসদে তোলেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান রতন একটি হত্যাকাণ্ড ঘিরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তদন্ত চান।
তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রসঙ্গও আসে।
রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম ২০০৮ সালের নির্বাচনকে ‘কারচুপির নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণে তারেক রহমানের নেতৃত্বের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরেন।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে তিন স্বৈরাচারের জন্ম হয়েছে, আর জিয়া পরিবার থেকে এসেছে তিন ‘বিপ্লবী’। তিনি এ নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান।
গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তেল সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করার দাবি জানান। তার দাবি, মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের ‘মিল’ নেই।
কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সদস্য মোঃ আবুল কালাম অর্থপাচার, যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের প্রসঙ্গ তোলেন। তার দাবি, আগের সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করে গেছে।
এছাড়াও ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল, চাঁদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য মো. আবদুল হান্নান, রাজশাহী-৬ আসনের বিএনপির মো. আবু সাইদ চাঁদ এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বিএনপির মোঃ আব্দুস সালাম রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।