সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর

“সারাবিশ্ব এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলে। এর সুফলটা করোনাভাইরাসের সময় যেমন আমরা পেয়েছি, আবার সাথে সাথে এর কতগুলো খারাপ দিক আছে,” বলেন শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Oct 2022, 09:29 AM
Updated : 6 Oct 2022, 09:29 AM

সাইবার জগতে ভালো অনেক কিছুর পাশপাশি খারাপ দিকও যে আছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার গণভবনে ‘জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল’ এর সভায় তিনি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও দেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনাতেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, “সারাবিশ্ব এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলে। এর সুফলটা করোনাভাইরাসের সময় যেমন আমরা পেয়েছি, আবার সাথে সাথে এর কতগুলো খারাপ দিক আছে।”

সাইবার অপরাধ যে সব দেশেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে  উঠেছে, সে কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “এটা একটা বিরাট সমস্যা। এখানে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা অথবা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিকাশ… নানা ধরনের ঘটনা কিন্তু ঘটে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এ বিষয়ে আমাদের নিরাপত্তার দিকটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব এখন একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হয়েছে এবং এখানে কেউ একা চলতে পারবে না।

“সবাই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, সেটা আমরা খুব ভালোভাবে টের পেয়েছি এক হল করোনার সময়, দ্বিতীয় হল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়।”

তিনি বলেন, ওই যুদ্ধ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকেও আর্থসামাজিকভাবে প্রভাবিত করেছে।

“সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদেরকে চলতে হচ্ছে খুব কঠিন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে। হয়ত ভবিষ্যতে আরো খারাপ সময় আসতে পারে। তবে আমাদের যেটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে নিরাপত্তা।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে যখন চারদিকে সন্ত্রাসের একটা প্রভাব শুরু হয়েছিল, আমরা কিন্তু খুব সফলভাবে সেটা দমন করে রাখতে পেরেছিলাম। আমরা সেটাকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে মানুষকে সাথে নিয়ে, মানুষকে সম্পৃক্ত করে করতে পেরেছি।

“কিন্তু তারপরও আজকে প্রযুক্তির প্রভাব এখন এত বেশি, আর এটা বিশ্বকে আরো কাছে নিয়ে আসে। এর যেমন ভালো দিক আছে, খারাপ দিকও আছে। সেই দিকে আমরা লক্ষ্য রেখেই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলটা গঠন করা হয়েছে।”

এ সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে এবং সেসব বিষয়ে অভিজ্ঞরা তাদের মতামত দেবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন, তাদেরও এ বিষয় সম্পর্কে আরো জানা প্রয়োজন আছে এবং ভবিষ্যতে আমাদের কি করণীয়, আর এ ক্ষেত্রে কাদের সঙ্গে আমরা সমঝোতা করতে পারি, সম্পৃক্ত থাকতে পারি বা কাদের কাছ থেকে আমরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারি বা কীভাবে আমরা তা কাজে লাগাতে পারি– সে বিষয়গুলোও আমাদের ভাবতে হবে।”

দেশের মানুষের মাঝেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, “সাইবার ক্রাইম করাটা যে কতটা ক্ষতিকর, একটা সমাজের জন্য, ব্যক্তি জীবন থেকে নিয়ে পরিবার, সমাজ এবং দেশ, রাষ্ট্র সকলের জন্যই যে ক্ষতিকারক, সেই সম্পর্কে একটা সচেতনতা কীভাবে আমরা সৃষ্টি করতে পারি আমাদের মানুষের মা,ঝে সেই দিকটাও আমাদের দেখতে হবে।”

পাশাপাশি বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা– এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর গবেষণা ছাড়া আসলে কোনো জাতি কিন্তু উন্নত হতে পারে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক