Published : 12 Jun 2026, 07:15 PM
পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরে একটি ‘হাব’ তৈরির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যেখানে থিয়েটার থেকে শুরু করে বিনোদনের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে।
শুক্রবার বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “বিদেশি পর্যটক আসে না, এর জন্য খুব বেশি চিন্তার কোনো কারণ নাই। দেশের যে পর্যটক আছে এদের যদি আমরা পরিচর্যা করতে পারি, আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল একটা ভূমিকা রাখবে।”
আগের দিন বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকে পর্যটন খাতও চাইলে অর্থপাবে।
এছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
পর্যটনকে উৎসাহিত করতে এ খাতকে সৃজনশীল অর্থনীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা প্রস্তাবিত বাজেটে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসে দেশে বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই মন্তব্য করে তিনি।
অর্থমন্ত্রীর বলেন, “বাংলাদেশে, ঢাকায় যদি বলি, এখানে আমাদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। আমাদের বিনোদন হচ্ছে, কারো বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়া অথবা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ডিনার করা।
“এই জন্য বিনোদনের যে বিষয়টা, এটা সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি। অর্থাৎ পর্যটনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে এটা পরবর্তীতে। এইটার জন্য আমরা অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকার বাইরে আমরা একটা হাব করছি, যেখানে থিয়েটার থেকে শুরু করে সব ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে। বিকালে গেলে যাতে, পুরো সন্ধ্যাটা কাটানো যায়। থিয়েটার দেখতে চান, না স্ট্যান্ডআপ কমেডি চান, না ডিজাইনার শপে যাবেন, না ফাইন ডাইনিংয়ে যাবেন, নাকি আর্টিস্টদের, পেইন্টারদের শপে যাবেন?”
বিদেশে বিনোদনের ব্যবস্থার থাকার প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, “যে কোনো দেশে, লন্ডনে যদি আপনি ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টে’ যান, দিনের শেষে দেখবেন একটা লোক এক হাজার ডলার খরচ করে বাড়ি চলে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে আমাদের মনেটাইজ করতে হবে।
“আপনি যদি কোনো কালচারকে মনেটাইজ করতে না পারেন, সেটা কিন্তু টিকে থাকে না। এটা থেকে একটা আয় হতে হবে। যারা আমাদের দিচ্ছে তাদেরও আয় হতে হবে, যারা যাচ্ছে তারা বিনোদন পাবে।”
দেশের সংগীতের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে কি সুরের অভাব আছে? আমাদের পল্লীগীতি আছে, লালন গীতি... অনেক মিউজিক। কিন্তু আমরা মনেটাইজ করতে পারিনি কোনোদিন। আমাদের পাশের দেশে সব মনেটাইজড। ‘ফিল্ম ইজ মনেটাইজড, থিয়েটার ইজ মনেটাইজড’। লন্ডনে যান, ‘এভরিথিং ইজ মনেটাইজড’।”
“সৃজনশীল অর্থনীতিতে যে কাজটা আমরা করতে চাচ্ছি, ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় এই সুযোগগুলো তৈরির জন্য একটা বড় উদ্যোগের কাজ শুরু করেছি। ৮০০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা শুরু করছি এই কাজটা, যেটা কোনোদিন বাংলাদেশে কেউ চিন্তাও করে নাই।”
বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় পর্যটনের’ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ধর্মীয় পর্যটন হতে পারে। বৌদ্ধদের অনেক কিছু আছে। যারা এখানে আসবে, এগুলোকে আমরা কোনোদিন ‘রিস্টোর’ করি নাই। কোনোদিন এই সাইটগুলোকে ওইভাবে ডেভেলপ করি নাই। ওইখানে কোনো অবকাঠামো তৈরি করি নাই। আমাদের এই তালিকার মধ্যে সেটাও আছে।”
দেশীয় সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, “সুরের কোনো সীমানা নাই। আমরা সারা দুনিয়ার সব গান শুনছি না? এখন তো কোরিয়ান গান, কোরিয়ান থিয়েটার সব চলছে। আমরা এটাকে মনেটাইজ করতে পারি নাই। আমাদের যে সুযোগগুলো আছে, এটাকে কাজে লাগানোর জন্য সৃজনশীল অর্থনীতিটা আমরা শুরু করেছি।”