Published : 04 Feb 2023, 09:38 PM
অমর একুশে বইমেলায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের হুইল চেয়ার সেবা থাকলেও মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে ও চলাচলে বিড়ম্বনার কথা জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
শনিবার ছুটির দিনে বেশ কয়েকজন ক্রেতা-দর্শনার্থীকে হুইল চেয়ার ব্যবহার করে মেলায় ঘুরতে দেখা যায়। তবে তাদের ভাষ্য, ‘মেলার পরিবেশ হুইল চেয়ার বান্ধব নয়'।
বইমেলায় গত ৯ বছর ধরে এ সেবা দিয়ে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’। চেয়ারগুলো সরবরাহ করে থাকে বাংলা একাডেমি।
শনিবার হুইল চেয়ারে চেপে মেলায় আসেন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জিয়া হায়দার। টিএসসি সংলগ্ন উদ্যানের ফটকের সরু পথ দিয়ে প্রবেশের সময়ই পড়েন বিড়ম্বনায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জিয়া বলেন, “প্রতি বছরই বইমেলায় আসি। কিন্তু আয়োজকেরা হুইল চেয়ারে প্রবেশের কথা তেমন চিন্তা করেন না। মেলা মাঠের উঁচু-নিচু জায়গায় হুইল চেয়ারে ঘুরতে অনেক সমস্যা হয়।
“টিএসসির সামনের গেটটা এত সরু যে, হুইল চেয়ার ঠিকমত প্রবেশ করতে পারে না। মাঠে ধুলা, নরম মাটিতে চাকা আটকে যায়। অনেক কষ্ট হয় মেলায় ঘুরতে।”
অসুস্থ লেখিকা নূর আঁখির অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। তিনি বলেন, “হুইল চেয়ার সেবাটা ভালো, স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক আন্তরিক। কিন্তু মেলার পরিবেশ এর উপযোগী নয়।
“কেউ তো ইচ্ছে করে হুইল চেয়ার ব্যবহার করে না। আমার মত যারা অসুস্থ কিংবা চলতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য প্রত্যেকটি প্রবেশপথে এ রকম সেবা থাকা দরকার। তাছাড়া এ ধরনের লোকদের মেলার প্রবেশপথ পর্যন্ত আসতে রিকশা প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু অনেক দূরেই আটকে দেয়।”
সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটককে বলেন, “স্বেচ্ছাসেবকদেরও অনেক কষ্ট হয়। প্রতিটি স্টল যদি লেন আকারে করা হত বা পাকা রাস্তা থাকত, তাহলে হুইল চেয়ার সবার জন্য উপযোগী হত। আমরা প্রতিনিয়ত এই সমস্যাটা ফেইস করছি।”
তিনি জানান, এ সমস্যার কথা জানিয়ে প্রতিবারই বাংলা একাডেমির কাছে আবেদন করলেও মেলার আয়োজক সংস্থাটি কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।
একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এই সমস্যারটা কথা প্রথমবার শুনলাম। হুইল চেয়ার তো গতবারও ছিল। আমরা এ ধরনের সমস্যার কথা শুনিনি। তবে এখন যেহেতু বিষয়টা সামনে এসেছে, আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।”
শনিবার মেলার চতুর্থ দিনে নতুন বই এসেছে ১১৩টি। চার দিনে মেলায় মোট ২৩০টি নতুন বই এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।
এদিনও মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহরে শিশুরা এসেছিলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। আর মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হয় ‘স্মরণ: ড. আকবর আলি খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া।
আলোচনায় অংশ নেন ফারুক মঈনউদ্দীন, মো. মোফাকখারুল ইকবাল ও কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, “অর্থনীতি, ইতিহাস নৃবিজ্ঞান ও সাহিত্য নিয়ে গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ড. আকবর আলি খানকে যেমন অমর করেছে, তেমনি বাঙালি জাতিকে করেছে ঋদ্ধ। এমন একজন বিবেকবান, স্পষ্টভাষী, সৎ ও নির্মোহ মানুষ আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবেন।”
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারুক হোসেন, আবদুল বাছির, ইসহাক খান ও আফরোজা সোমা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি অসীম সাহা, অঞ্জনা সাহা ও ফরিদ কবির। আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম, অলোক কুমার বসু ও মিজানুর রহমান সজল।
মেলায় এদিন গোলাম কুদ্দুছের নেতৃত্বে ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা’ এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন দিল আফরোজ রেবা, চন্দনা মজুমদার, আব্দুল লতিফ শাহ এবং শাহ আলম দেওয়ান।
রোববারের সময়সূচি
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে মেলার পঞ্চম দিনে মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে হবে ‘স্মরণ: সমরজিৎ রায় চৌধুরী’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাহিদ মুস্তাফা। আলোচনায় অংশ নেবেন মইনুদ্দীন খালেদ, মুস্তাফা জামান ও আনিসুজ্জামান সোহেল। সভাপতিত্ব করবেন শিল্পী হাশেম খান।
পুরানো খবর:
বইমেলার দুদিন গেলেও আলোহীন লিটলম্যাগ চত্বরপুরানো খবর:
শিশুদের প্রহরে শিশুদের উৎসব