Published : 04 Mar 2026, 03:36 PM
নয় বছর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন পিংকুকে পাঁচ টুকরো করে হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে গেছে।
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলামের আদালতে এ রায় হওয়ার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু বিচারক আদালতে বলেছেন আসামিপক্ষ থেকে ‘তদবির করা হচ্ছে’। এ করাণে আগামী ৩১ মার্চ রায়ের নতুন দিন দিয়েছেন বিচারক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা বলেন, “আজ মামলাটি রায়ের জন্য ছিল। রায়ও প্রস্তুত। বিচারক ওপেন এজলাসে বলেন, তিনি আজ রায় দিতে পারছেন না। কারণ আসামিপক্ষ তার কাছে বিভিন্নভাবে তদবির করেছে।”
মামলার আসামিরা হলেন-অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ওরফে মতি, তার বোন মরিয়ম বেগম, তার স্বামী লুৎফর, ভাই মোখলেছ ও চান মিয়া ওরফে জাহিদ, জাহিদের স্ত্রী মেরী, আনিছ মাষ্টার, বাবুল, সিরাজ, আমির, এনামুল করিম শাহীন, আমানুর, সাইজউদ্দিন, শফিকুল, হযরত, রিংকু, শরিফ, আওলাদ, দুই ভাই কাদের ও নেকবর, হাফিজ উদ্দিন, শিবলু।
আসামিদের মধ্যে হযরত, রিংকু ও সিরাজ পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “ঢাকার নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের ব্যবসায়ী পিংকুর সঙ্গে মতিউর রহমান, তার বোন মরিয়মসহ অন্যান্য আসামিদের সাথে একাধিক মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত্রুতা ছিল। মতিউর রহমান ও মরিয়মের পরিকল্পনায় ও নির্দেশনায় ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পিংকু মালিকান্দার চকে যাওয়ার পথে সকল আসামিরা এলাকার ধনিয়া ক্ষেতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ টুকরো করে হত্যা করে।”
এ ঘটনায় পরদিন পিংকুর ছোট ভাই মো. এরশাদ নবাবগঞ্জে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ২২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন নবাবগঞ্জ থানার এসআই মো. আরাফাত হোসেন।
২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।
আসামিদের পক্ষে দুই জন সাফাই সাক্ষ্য দেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন ঠিক করেন।