১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হোলি আর্টিজানে ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের পোস্টার

গুলশান থানায় এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কেউ বক্তব্য দিতেও চাননি।

হোলি আর্টিজানে ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের পোস্টার
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জিম্মি করা মানুষদের উদ্ধারে গিয়ে প্রাণ হারানো দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2024, 10:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:21 AM

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানো হয়েছে। 

কখন বা কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

গুলশান থানায় এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কেউ বক্তব্য দিতেও চাননি। 

বাধন মুন্সি নামে একজন নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেন, “হোলি আর্টিজানে নিহত পুলিশ অফিসার স্মরণে গুলশানে নির্মিত মনুমেন্ট ভেঙে নিষিদ্ধ ‘জঙ্গি সংগঠন’ হিযবুত তাহরীর তাদের পোস্টার লাগিয়েছে।” 

সবশেষ মঙ্গলবার রাতে দেখা যায়, ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ ভাঙচুরের অংশ বিশেষ পড়ে আছে। হিযবুতের পোস্টারও রয়েছে। 

হোলি আর্টিজান বেকারিতে স্থাপন করা ভাস্কর্যটির বর্তমান অবস্থা।

হোলি আর্টিজান বেকারিতে স্থাপন করা ভাস্কর্যটির বর্তমান অবস্থা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে একদল উগ্রবাদী সশস্ত্র তরুণ রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বরে হোলি আর্টিজান বেকারি নামে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া মানুষদের জিম্মি করে। 

তখন রোজার মাস। আর ওই বেকারি ছিল বিদেশিদের পছন্দের জায়গা। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ওই রেস্তোরাঁকেই বেছে নেয় জঙ্গিরা। 

পাঁচ তরুণের ওই দলটি সশস্ত্র অবস্থায় হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে পড়ে। গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। 

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, একজন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক ছিলেন। এর বাইরে হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। 

২০১৮ সালে নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের স্মরণে পুরাতন গুলশান থানার সামনে ‘দীপ্ত শপথ’ নামে একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার। 

গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রকাশ্যে চলে আসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর। হোলি আর্টিজান বেকারির সামনে স্থাপন করা ভাস্কর্য ভাঙার পর নিষিদ্ধ সংগঠনটির পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রকাশ্যে চলে আসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর। হোলি আর্টিজান বেকারির সামনে স্থাপন করা ভাস্কর্য ভাঙার পর নিষিদ্ধ সংগঠনটির পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

গত ৫ অগাস্ট প্রবল গণ আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই দেশে ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চোখে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় অনেক ভাস্কর্যও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

সেদিন থেকেই নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর প্রকাশ্যে মিছিল করা শুরু করেছে। গত ১০ অগাস্ট জুমার নামাজের পর সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল করে। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করে তারা। 

২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকার হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সে সময় সরকারের তরফে বলা হয়, “এ সংগঠনটির কার্যক্রম দেশে জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।” 

হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলে সক্রিয় হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। বিশ্বের পাশাপাশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশ কিছু দেশেও উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: 

হিযবুত তাহরীরের লিফলেট দিতে গিয়ে ধরা ঢাবি শিক্ষার্থী

পোস্টার সাঁটানোর সময় ধরা হিযবুত তাহরীর সদস্যের তথ্যে গ্রেপ্তার স্কুল শিক্ষক

বুয়েটে হিজবুত তাহরীর ও ছাত্রশিবির 'ঠেকানোরদাবি ১৭ শিক্ষার্থীর

'বুয়েটে হিযবুত তাহরীরছাত্রশিবির স্বার্থ হাসিল করছে'

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর

হিযবুত তাহরীর নেতা তৌহিদ সিটিটিসির জালে