১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চিকিৎসক ‘নিখোঁজ’, হাজির করতে মা-বাবাকে হাই কোর্টের নির্দেশ

তার বাবা-মা এবং স্বামী তাকে অব্যাহতভাবে ‘জোরপূর্বক’ মানসিক হাসপাতালে ভর্তির ‘হুমকি’ দিয়ে আসছিলেন, আদালতে বলেছেন আইনজীবী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Aug 2025, 11:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

রাজধানীর আল-বারাকা হাসপাতালের সনোলজিস্ট ডা. ফারাহ দীনাকে আদালতে হাজির করতে তার মা-বাবাকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। 

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা ফারাহর বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন ও মা রওশন আরা দেলোয়ারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এই চিকিৎসককে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সায়েদ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 

ফারাহ দীনার পক্ষে গত ৯ অগাস্ট এই রিট দায়ের করেন তার দুই বন্ধু শারমিন লায়লা তন্বী এবং ডা. তোহফা-ই-আইয়ূব। 

তাদের রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আসিফ বিন আনওয়ার।

এই আইনজীবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ২০ অগাস্ট সকাল ১১টায় ডা. ফারাহ দীনাকে আদালতে হাজির করতে তার বাবা-মাকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। 

তিনি বলেন, ফারাহ দীনা তার বন্ধুদের জানিয়েছিলেন যে তার বাবা-মা ও স্বামী তাকে বহুদিন ধরে ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও ২০১৮ সালে প্রায় চার মাস একটি মানসিক হাসপাতালে জোর করে ‘বন্দি’ করে রাখেন। সে সময় তাকে যে চিকিৎসা এবং ওষুধপত্র দেওয়া হয় তা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘস্থায়ী ‘ক্ষতিসাধন’ করে বলে ফারাহর মত।

“বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত ২৬ জুলাই আমার চেম্বারে ফারাহ ও তার বাবা-মার সঙ্গে আলোচনা হয়। তখন তার বাবা-মা বলেন, ফারাহকে আর মানসিক কষ্ট দেবেন না।”

আইনজীবী আসিফ বলেন, এরপরও তারা ফারাহর ওপর নির্যাতন বন্ধ না করায় তিনি বন্ধুদের সাহায্য চান। তার বাবা-মা এবং স্বামী তাকে অব্যাহতভাবে ‘জোরপূর্বক’ মানসিক হাসপাতালে ভর্তির ‘হুমকি’ দিয়ে আসছিলেন। এ অবস্থায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ জানান। 

“ফারাহ দীনার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ও তার কাজের জায়গায় গিয়ে কোনও খোঁজ না পেয়ে বাসায় যান। বাসায় তার বাবা-মা জানান, তিনি ঘরে আছেন। কিন্তু তার সঙ্গে দেখা করতে দেননি। 

“এরপর আমরা (বন্ধু ও আইনজীবী) উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তারা অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে বলা হয়, তার কোনো আত্মীয় না হওয়ায় তা নেওয়া হচ্ছে না। তবে তারা তদন্ত করে দেখবে। কিন্তু তদন্তের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তার বন্ধুরা রিট আবেদন করেন।”