Published : 12 Jul 2026, 10:07 PM
চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাই কোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
রোববার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয় হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ঋণ খেলাপের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। এর প্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির এই প্রার্থী হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদন শুনে হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
পরে জামায়াত প্রার্থী আপিল বিভাগে আবেদন করলে আদালত নির্বাচনের সুযোগ দিলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
ভোটে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় কমিশনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকায় তার শপথ নেওয়া আটকে ছিল।
পরবর্তীতে সরোয়ার আলমগীর শপথের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে ১৬ জুন আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে মামলাটি হাই কোর্টে পাঠায়।
সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট রায় দেয়। ওই দিনই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে এবং সন্ধ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরোয়ার আলমগীরকে শপথ পড়ান।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের আগে গেজেট প্রকাশ ও শপথ আয়োজনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনকে আইনি নোটিস পাঠান জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
নোটিসের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “হাইকোর্টের রায়ের কোনো কপি বের হয়নি, রায় লেখা হয়নি এবং সইও হয়নি। কোর্টের কোনো কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়নি। হঠাৎ করে শুনলাম নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।”