Published : 25 May 2026, 12:35 AM
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগপত্র জমার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা।
অভিযোগপত্র নিয়ে তার আপত্তি না থাকায় তিনি বিচার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতেই ভরসা রাখার কথা বলেছেন।
আট বছর বয়সি রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে গত ২১ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকে রামিসাদের বাসায় গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা দেন। একইসঙ্গে দ্রুত বিচারেরও আশ্বাস দেন শিশুটির পরিবারকে।
এছাড়া অন্যান্য জায়গাতেও নানা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বলেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান রোববার দুই আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, “আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”
পরে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে; এখন যত দ্রুত সম্ভব বিচারটা যেন শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। সেটা যেন কার্যকর হয়।”
অভিযোগপত্রে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি কোনো নারাজি দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় স্বপ্নাকে। ওইদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক হয় সোহেল রানা।
এ ঘটনায় পরদিন সোহেল ও স্বপ্নাকে আসামি করে মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান।
২০ মে সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আর স্বপ্নাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা ছাড়াও অভিযোগপত্রে সোহেল ও স্বপ্না সম্পর্কে আরো তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, সোহেল আগেও একটি বিয়ে করেছিল। সে ঘরে তার একটি মেয়ে আছে। পরবর্তীতে সে স্বপ্নকে বিয়ে করে।
এই মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে শনিবার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “স্পেশাল পিপি হিসেবে মুখ্য দায়িত্ব ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আসামির যেন সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা যায় সেই প্রচেষ্টা থাকবে।”
এদিকে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনি সেবা দিবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
রোববার আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।