বিটিসিএলের সাবেক জিএমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অনিয়মের কারণে টেলিকমিউনিকেশন্স নেটওয়ার্ক ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের ১৬৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার ঋণ বরাদ্দ ফেরত নেয় জাইকা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Feb 2024, 03:35 PM
Updated : 27 Feb 2024, 03:35 PM

দরপত্র প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক আমিনুল হাসানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল অবেদীন এ মামলা করেন বলে জানান দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

অন্য আসামিরা হলেন- বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির এমডি মশিউর রহমান, বিটিসিএলের টেলিকমিউনিকেশন্স নেটওয়ার্ক ডেভলপমেন্ট (টিএনডি) প্রকল্পের সাবেক ডিই-৫ আতাউর রহমান, বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (সংগ্রহ) ও টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাব উদ্দিন, বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক, সাবমেরিন কেবল কোম্পানির বর্তমান মহাব্যবস্থাপক আজম আলী, বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (সংগ্রহ) মাকসুদুর রহমান আকন্দ, বিটিসিএলের টিএনডি প্রকল্পের পরিচালক অশোক কুমার মন্ডল এবং বিটিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজ উদ্দিন আহমদ।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা লাভবান হতে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিএনডি প্রকল্পের লট-বি দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তারা সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রাক-যোগ্যতা মূল্যায়নের নির্ণায়ক যেমন পরিবর্তন করেন, তেমনই দরপত্র আহ্বানের দুই মাস পর প্রাক্কলন নির্ধারণ করেন। তাছাড়া কেনাকাটার সরকারি বিধি ও জাইকার গাইডলাইনও অনুসরণ করেননি আসামিরা।

এসব কারণে প্রায় ৫২২ কোটি টাকার জাইকার ঋণের লট-বি’র জন্য বরাদ্দ করা ১৬৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ২০১৫ সালের ৭ মে ফেরত যায়।

০.০১ শতাংশ সুদে ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য এ ঋণকে অতি সহজ শর্তের ঋণ বর্ণনা করে মামলায় বলা হয়, আসামিরা দেশের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ)-২০০৬ এর ৬৪ ধারা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর ১২৭ বিধি অনুসারে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ৫১১, ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

মামলায় ঘটনার সময় হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ মে থেকে ২০১৫ সালের ৭ মে পর্যন্ত সময়কে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়েছে, অতি সহজ শর্তের ঋণ থেকে বঞ্চিত করায় সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।