২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই অতি ভারি বর্ষণের আভাস

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ নদীরে পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jun 2024, 03:58 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:08 PM

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে; নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের নিচু এলাকাও বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ নদীরে পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যেই আগামী দুই থেকে তিন দিন উজানে ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, মনু-খোয়াই ছাড়া দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব নদ নদীর পানি বাড়ছে। 

“আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা, ঝালুখালি, পুরাতন-সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার নদীবিধৌত আরও কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং নেত্রকোণা জেলার কতিপয় নিম্নাঞ্চল ও মৌলভীবাজার জেলার কুশিয়ারা নদীবিধৌত নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছিল। 

পানি সমতল স্টেশন

নদীর নাম

বিপৎসীমা (মিটার)

পানির সমতল (মিটার)

২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি (সে.মি.)

বিপৎসীমার উপরে (সে.মি.)

কানাইঘাট

সুরমা

১৪.০৮

১৩.০৫

+৬১

+১৩৩

সিলেট

সুরমা

১০.৮০

১১.০২

+৬৮

+২২

সুনামগঞ্জ

সুরমা

৭.৮০

৮.৪৭

+8৭

+৬৭

আমলশীদ

কুশিয়ারা

১৫.৪০

১৫.৫৫

+8২

+১৫

মারকুলি

কুশিয়ারা

৭.০৫

৭.১৭

+১২

+১২

সারিঘাট

সারিগোয়াইন

১২.৩৫

১২.৭০

+১৬

+৩৫

লরেরগড়

যাদুকাটা

৮.০৫

৮.৪৮

+৯৭

+৪৩

কলমাকান্দা

সোমেশ্বরী

৬.৫৫

৬.৭৭

+২৫

+২২

মঙ্গলবার সকাল ৯ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের লালাখালে ৩৩৩ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ৩২৭ মিলিমিটার কানাইঘাটে ১৯১ মিলিমিটার, জকিগঞ্জে ১৮৮ মিলিমিটার; সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৯ মিলিমিটার; পঞ্চগড়ে ১৯৯ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এছাড়া উজানে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৮ মিলিমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এই সময়ে।

উদয় রায়হান বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ হতে ৭২ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরও মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে ব্রহ্মপুত্র-ষযুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি সমতলও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

উদয় রায়হান বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

সিলেটে যখন ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, খুলনা বিভাগে তখন বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। সোমবার খুলনায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, খুলনা বিভাগসহ পটুয়াখালী, ভোলা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলার ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এই সময়ে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বাড়ছে নদ-নদীর পানি, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি