এক মামলায় তিন বেঞ্চে জামিন আবেদন, ৩ আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
হত্যা মামলার পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর ‘তথ্য গোপন করে’ হাই কোর্টের পৃথক তিন বেঞ্চে জামিন আবেদন করায় তিন আইনজীবীকে ১৫ দিন আইন পেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছে।
ওই তিন আইনজীবী হলেন- আন্না খানম, এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও রহিম উদ্দিন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুরের আদেশের পর হাই কোর্টের পৃথক তিন বেঞ্চে জামিন আবেদন করায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
পাঁচ আসামি, তাদের তিন আইনজীবী এবং মো. সেলিম রেজা, রিপন আহমেদ ও মোশারফ নামের তিন তদবিরকারককে ১৫ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাই কোর্টের পৃথক তিন বেঞ্চে পাঁচ আসামির পক্ষে জামিন আবেদনের বিষয়টি ধরা পড়ার পর স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য আইন পেশা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“একইসঙ্গে নিম্ন আদালতকে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন- রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কোনো আবেদনের শুনানি যেন না নেওয়া হয়।”
রাজধানীর মুগদার খালপাড় সুখনগরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার মামলার ওই পাঁচ আসামি হলেন- মিল্লাত হোসাইন, লিপি আক্তার, মো. শরীফ, আনোয়ার হোসেন টনিক ও মো. আরিফুর রহমান জনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মুগদার মানিকনগর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে তারা স্থানীয় সাইফুল ইসলামকেও সঙ্গে নেন।
সেদিন মানিকনগরের মিয়াজান গলির একটি বাসায় অভিযানের সময় মাদক কারবারিরা সাইফুলের ওপর হামলা চালায়। হাতুড়ি ও রড দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। একদিন পর রামপুরার ডেল্টা হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ওই ঘটনায় সাইফুলের বোন রাফিজা আক্তার হত্যা মামলা করেন।
গত ১৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার পাঁচ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৩০ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর ও ৬ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের পৃথক তিনটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করা হয়।
গত ১ নভেম্বর একটি জামিন আবেদনের শুনানির সময় একই আসামিদের পক্ষে হাই কোর্টের অন্য দুটি বেঞ্চে আরও দুটি জামিন আবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপর বুধবার ওই তিনটি জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট বেঞ্চ।
